নীরব প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া

0
178

সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নীরব প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া ভোট শেষে বিকেল থেকে ভোট কেন্দ্রে পাহারা বসাবার জন্যও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

ঘণ্টাব্যাপী লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিবেশী নেপাল ও ভারতে সংঘটিত ভূমিকম্পে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতিতে শোক প্রকাশ করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে প্রতিবেশী নেপাল ও ভারতে বহু মানুষের প্রাণহানি এবং আমাদের দেশের হতাহতের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। বেদনার্ত মন নিয়ে অনেক দিন পর সরাসরি আপনাদের মুখোমুখি হয়েছি।

সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্য অনুসন্ধান এবং তা মানুষের সামনে তুলে ধরার এক কষ্টকর মহান পেশা। এই পেশায় যারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়োজিত, আমরা তাদের বরাবর সম্মান করি। দীর্ঘদিন আপনারা আমার সঙ্গে কষ্ট করেছেন। এখনো করছেন। এ জন্য আমি আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

খালেদা জিয়া বলেন, আমি আশা করি, দেশ-জাতির বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে সত্যের প্রতি এই অবিচল নিষ্ঠা আপনারা সাহসের সঙ্গে অব্যাহত রাখবেন। দেশের মানুষ আপনাদের ওপর অনেক বেশি ভরসা করে।

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোট হচ্ছে জনগণের এক বিরাট ক্ষমতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিরাট শক্তি। সঠিকভাবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। নীরব বিপ্লব ঘটান। মা-বোন, মুরুব্বী, তরুণসহ সব বয়স ও শ্রেণী-পেশার ভোটার সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে যাবেন। লাইন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন। কাউকে ভয় করবেন না। অন্যায় ও অনিয়ম দেখলেই প্রতিবাদ করবেন।

ভোটের পর কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ভোট শেষে বিকেল থেকে ভোট কেন্দ্রে পাহারা বসাবেন। গণনা শেষে ফলাফল বুঝে নিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করবেন। যাতে আপনাদের দেওয়া রায় ওরা বদলে ফেলতে না পারে।

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মনে রাখবেন, দেশের সম্পদ লুটপাট করে এবং আপনাদের রক্ত চুষে এরা (সরকার) টাকার পাহাড় গড়েছে। কাজেই এরা যে টাকা বিলাচ্ছে, সেটা আপনাদেরই টাকা। ওদের কাছ থেকে টাকা নিলেও ভোট বিক্রি করবেন না।

তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দাবি করেছি। স্থানীয় নির্বাচনে আমাদের ওই দাবি নেই।

নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে আবারও সেনাবাহিনী মোতায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের নির্বিগ্নে ভোটদান নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকায় বিচারিক ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনীর পর্যাপ্ত পরিমাণ সদস্য মোতায়নের কথা বলেছিলাম। যাতে ভোট দেওয়া, ভোট গণনা, ফল প্রকাশ এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ের সম্ভাব্য সহিংসতাও রোধ করা যায়।

কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে ফেলার জন্য তারা যে পরিকল্পনা এঁটেছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীকে বাধা মনে করছে। এ কারনেই তারা এখন বলছে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সেনা ছাউনিতেই থাকবেন রিজার্ভ ফোর্স হিসেব্ েরিটার্নিং কর্মকর্তা ডাকলেই তারা মুভ করবেন। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যামে আবার প্রমাণিত হলো, সশস্ত্র বাহিনীর তাদের কোনো আস্থা নেই-বলেন খালেদা জিয়া।