ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার একাধিক কেন্দ্র পরিদর্শন করে এর প্রমাণও পাওয়া যায়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ করা হবে।

রাজধানীর লালবাগ এলাকার রহমতগঞ্জ প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে দুইটি ভোট কেন্দ্র রয়েছে।

এর একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসর উৎপল পাল চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ভোট গ্রহণের সকল সরঞ্জাম  ইতিমধ্যে কেন্দ্রে আনা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় বুথ তৈরী করা হয়েছে। রাতে এ কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার থাকবেন বলে জানিয়েছে তিনি।

ইসলামবাগ হাজী ইব্রাহীম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে তিনটি কেন্দ্র। এর একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ভোট গ্রহণের জন্য পযাপ্ত বুথ তৈরী করা হয়েছে। ভোট গ্রহণকারী বিভিন্ন অফিসারদের নিয়ে আমরা মিটিং করছি। সকালে নির্ধারিত সকাল আটটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে।

এসব কেন্দ্রের জন্য নিরাপত্তার জন্য সরকার থেকে নির্ধারিত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছে বলে জানিয়েছে তিনি।

অন্যদিকে, বংশাল এলাকার সুরিটোলা সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের রয়েছে তিনটি ভোট কেন্দ্র। সেখানে গিয়ে দেখা যায় তিন প্রিজাইডিং অফিসার সহকারী অফিসার ও পোলিং অফিসারদের নিয়ে মিটিং করছেন।

এ তিন কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইনচার্জ পুলিশের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করছি সকাল থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন।

বংশাল এলাকায় বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশের মোবাইল টিমের প্রধান ও পুলিশের পরিদর্শক ক্ষিতীশ চন্দ্র সাহা জানান, তিনি ওই এলাকার চারটি ভোট কেন্দ্রের জন্য মোবাইল টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সন্ধ্যা পর্যন্ত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। ভোটগ্রহণকারী অফিসাররাও তাদের প্রস্তুতি শেষ করেছেন।

সকাল থেকে সারাদিন সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে মানুষ ভোট দিতে পারবেন।

এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি ও ৠাব সদস্যদের নির্বাচনের নিরাপত্তায় টহল দিতে দেখা যায়।

ইতিমধ্যে মাঠে নামানো হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ফোর্স। তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে টহল অব্যাহত রেখেছে। মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোনো অনিয়ম হলে কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি।

ভোটের দিন ‍তিন সিটি করপোরেশন এলাকায় সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার ফোর্স মাঠে নামাবে ইসি। এছাড়া ক্যান্টনমেন্টে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে ৩ ব্যাটালিয়ন সেনাবাহিনীর প্রায় ৩ হাজার জোয়ান।

২৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দীর মধ্যে ভোটারদের উপস্থিতি থাকলে সময় যতই লাগুক ভোটগ্রহণ অব্যহত রাখবেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এরপর কেন্দ্রেই ফলাফল প্রকাশ করে তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।