সদ্য শেষ হওয়া বহুল আলোচিত ও সমালোচিত তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছে দেশের সুশাসন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) রিজওয়ান-উল-আলম স্বাক্ষরিত পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়েছে।

সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি, বিভিন্ন কেন্দ্রে গোলযোগ ও সহিংসতা, ভোট প্রদানে বাধা প্রদান করা হয়েছে। সেখানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রনির্ভর নির্বাচনের আয়োজন করেও ব্যার্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের এ ব্যর্থতায় গভীর হতাশা ও উদ্বেগ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

ওই বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও পেশীশক্তির প্রয়োগে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে সদ্য-সমাপ্ত এই তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। যার ফলে এই তিন নির্বাচন নিয়ে গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারটিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের মত সাংবিধানিক একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আইন-প্রয়োগসহ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থতায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

ড. জামান বলেন, ‘ব্যাপক কারচুপির নির্ভরযোগ্য তথ্য আর প্রমাণ থাকার পরও কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অস্বীকৃতি, মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে নিজেকে বিব্রত করেছে। যথাযথ দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন শুধু যে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, বরং কমিশন ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটির এরুপ আচরণে তার নিজস্ব ভাবমূর্তি ও জন-আস্থা ধুলিসাৎ হয়েছে।’

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সমালোচনা করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলারক্ষাবাহিনীর কাজ হচ্ছে পেশী শক্তি দমনসহ আইনের লঙ্ঘন প্রতিহত করে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করা। নির্বাচনের জন্য সুস্থ ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোট প্রদানে নাগরিকদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করা। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা-বাহিনী তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে একদিকে নিরব দর্শক ছিলেন ও অন্যদিকে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন।

তাই নির্বাচন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এরূপ ব্যর্থতা মানুষের ভোটের অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করেছে এবং একই সঙ্গে দু’টি প্রতিষ্ঠানই নিজেদেরকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করেছে বলে মনে করছে টিআইবি।