নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলাই হবে মূল লক্ষ্য- তাবিথ আউয়াল

0
221

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার কথা ছিল আবদুল আউয়াল মিন্টুর। ঢাকার মেয়র হওয়ার স্বপ্ন তার দীর্ঘদিনের। এ লক্ষ্যে অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র পূরণে সামান্য ভুলে তার সেই স্বপ্নের সমাধি ঘটে। উচ্চ আদালত পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়েও প্রার্থিতা ফিরে পাননি দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিন্টু। কিন্তু তার এ সামান্য ভুল যে ছেলের জন্য খুলে দেবে অসামান্য সম্ভাবনার দুয়ার তা সম্ভবত পিতা-পুত্রের কেউই ভাবতে পারেননি।

ভোটার ও নেতাকর্র্মীদের কাছে তেমন পরিচিত নন তাবিথ আউয়াল। কৌশলগত কারণে উত্তরে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। জানতে পারেননি, ভাগ্যদেবী তখনই হেসেছেন তার দিকে তাকিয়ে। অবশেষে নানা ঘটনার পরিক্রমা শেষে মিন্টুপুত্র তাবিথই হলেন ঢাকা উত্তরে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে এ কাক্সিক্ষত সমর্থন দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির সমর্থন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় টেলিফোনে যুগান্তরকে তাবিথ আউয়াল বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলাই হবে তার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি নগরীর মৌলিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী তা বাস্তবায়নে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
‘আর্দশ ঢাকা আন্দোলন’ এর আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ গুলশানের বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে তাবিথকে সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আর্দশ ঢাকা আন্দোলন’ দক্ষিণে মির্জা আব্বাস এবং উত্তরে তাবিথ আউয়ালকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। এই বিষয়টি আমরা ২০ দলীয় জোট নেত্রীকে জানাতে এসেছি। তিনি এই প্রার্থীর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।’
রাত সাড়ে ৮টায় ‘আর্দশ ঢাকা আন্দোলন’ এর আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ, সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেইন, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী ও কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন খালেদা জিয়ার বাসভবনে যান। প্রায় ১ ঘণ্টা পর তারা বেরিয়ে আসেন।
আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান অধ্যাপক এমাজউদ্দীন। এক প্রশ্নের জবাবে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে আশা করছি আমাদের প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারপারসন অংশ নেবেন।’
সমর্থন পাওয়ার পর রাতেই খালেদা জিয়ার বাসায় যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর স্ত্রী ফাতেমা নাসরিন আউয়াল ও তাবিথ আউয়ালসহ মিন্টু পরিবারের সদস্যরা। তারা খালেদা জিয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তাবিথ খালেদা জিয়ার পা ছুঁয়ে সালাম করেন এবং তার দোয়া নেন।

মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর উত্তরে মাহী বি. চৌধুরী ও তাবিথের মধ্যে কাকে সমর্থন দেয়া হচ্ছে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। শেষপর্যন্ত তাবিথের ওপরই ভরসা রাখলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কয়েকদিন আগে তাবিথ ও তার মাকে ডেকে কথা বলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের আশ্বাস পেয়ে আÍবিশ্বাসী হয়ে উঠেন তাবিথ। বাবার বিকল্প হিসেবে উত্তরে মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিতে থাকেন।

 বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির সমর্থন পাওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনের নতুন মুখ তাবিথের নির্বাচনী ভাবনা ও বাবার মনোনয়নপত্র বাতিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যুগান্তরকে মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান। কেমন আছেন জানতে চাইলে বলেন- ভালো আছি। এ কথার পর তাবিথ বলেন, কখনও ভাবিনি নির্বাচন করব। কিন্তু কিভাবে কি হয়ে গেল, তা ভাবতেও পারছি না। তিনি বলেন, এই সমর্থন আমার কল্পনার অতীত।

নির্বাচিত হলে নগরীর জন্য কী করার পরিকল্পনা রয়েছে জানতে চাইলে তাবিথ জানান, রাজধানীর মেয়র হওয়ার জন্য তার বাবা দীর্ঘদিন স্বপ্ন দেখেছেন। এ নিয়ে তিনি তার পরিকল্পনাও তৈরি করেছেন। সামান্য ভুলে আপাতত তার স্বপ্ন পূরণ হল না। একটি আদর্শ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে দীর্ঘদিন তার বাবা যে স্বপ্ন দেখেছেন তিনি নির্বাচিত হলে সেভাবেই শুরু করতে চান। তবে নতুন প্রজন্ম হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য আধুনিক ঢাকা গড়ার লক্ষ্য অর্জনকে অগ্রাধিকার দেবেন। পাশাপাশি নগরবাসীর প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগোতে চান। এমন ভাবে কাজ করতে চান, যাতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে।

রাজনীতিতে নতুন, ব্যবসায়িক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেননি, পক্ষান্তরে আপনার প্রধান প্রতিপক্ষ সবার কাছে পরিচিত, তাকে কিভাবে মোকাবেলা করবেন জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, রাজনীতি ও ভোটের মাঠে আমি নতুন। এটাই আমার বড় সুবিধা। নগরবাসী আমাকে নতুনভাবে গ্রহণ করবে। তরুণ হওয়ায় নগরবাসীর ভালোবাসা ও স্নেহ আমার সঙ্গে থাকবে। নগরবাসীকে স্বপ্নের নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি দেব। নতুন হিসেবে ভোটাররাও আশা করি আমাকে সেই সুযোগ দেবেন।

প্রধান প্রতিপক্ষ প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আনিসুল হক সাহেব আমার অনেক আগের পরিচিত। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে তিনি আমার প্রতিপক্ষ। আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এমনভাবে কাজ করতে চাই, যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি হয় এবং নির্বাচনী মাঠ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।’

আপনার বাবার মনোনয়নপত্রের ভুল নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এটা ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, বাবার ভুল নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই। এটা স্রেফ অনিচ্ছাকৃত। যে লোকটি এতদিন ধরে মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সে ইচ্ছা করে তার স্বপ্ন ভেঙে ফেলবেন তা কি করে সম্ভব!

কার পরামর্শে মনোনয়নপত্র কিনলেন জানতে চাইলে তাবিথ বলেন, মেয়রপদে নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা না থাকলেও কৌশলগত কারণে তিনি মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন।

মিন্টুপুত্র সবশেষে বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। মানুষের সহযোগিতা চাই। আশা করব, নগরবাসী আমাকে ভালোবেসে ভোট দেবে।’