রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এসময় শতাধিক লোক আহত হন। শনিবার বেলা ১২টা ১১ মিনিটে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। এ ঘটনায় মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ময়মনসিংহের ধোবাউরায় স্কুল ভবন ধসে এক ছাত্র নিহত হয়েছে। আহত হয় সাতজন। এদিকে পাবনায় এক স্কুল শিক্ষিকা আতংকে মারা যান। এছাড়াও সাভারে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোহেল রানা বলেন, আমরা কতজনকে গ্রহণ করেছি এই মুহূর্তে তার হিসাব নেই। প্রাথমিকভাবে যাদের গ্রহণ করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই মাল্টিপল ইনজুরির শিকার। দুপুর দেড়টার দিকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিক এক তরুণ মারা যান।

এদিকে ভূমিকম্পের সময় ঢামেক হাসপাতালের পাঁচতলা ভবনের বারান্দা থেকে লাফিয়ে চিকিৎসাধীন জাহেদা বেগম (২২) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামীর নাম সেলিম। তারা চাঁদপুরের সন্দেশপুর এলাকার বাসিন্দা।

নিহতের বোন সাদিয়া জানান, জাহেদা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার দুপুরে হঠাৎ করে ঢামেক হাসপাতালের ২ নং নতুন ভবনের পঞ্চম তলার বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়েন জাহেদা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে পাবনার গোপালপুর এলাকায় ভূমিকম্পে আতংকিত এক মহিলা ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে যাবার সময় আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। তার নাম রোকেয়া খানম (৬৫)।

ভূকম্পনে রাজধানীর তেজগাঁও, বঙ্গবাজার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েকটি ভবন হেলে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন হেলে পড়েছে। এছাড়া তাড়াহুড়ো করে অফিস, বাসা-বাড়ি ও কারখানা থেকে নামতে গিয়ে শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। সাতক্ষীরায় একটি শপিং মল হেলে পড়েছে। সাভারের আল-মুসলিম গার্মেন্টের অর্ধশত শ্রমিক তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় নামতে গিয়ে শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ভূকম্পনের ঘটনায় কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়াম ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশ-নেপাল অনুর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল দলের ফাইনাল খেলা স্থগিত করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্র জানায়, ভূকম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৭৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নেপালের লামজুংএ। ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থলে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৯ (ইউএসজিএস)।

আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, ভারতের দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ কয়েকটি প্রদেশেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এছাড়া ভূকম্পনে নেপালে মোবাইল সেবা বন্ধ হয়ে গেছে।

ভূকম্পনের সময় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্ট কারখানা, অফিস ও বাসা-বাড়ি থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে বহু লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গাজীপুর বাঘের বাজার এলাকায় এস এম গ্রুপের একটি বহুতল গার্মেন্ট ভবন দেবে গেছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরে তিনটি গার্মেন্ট কারখানা একদিকে হেলে পড়েছে। রফতানীযোগ্য পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টি-শাট প্রিন্ট কারখানার অপারেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন সোহাগ গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ৪টি গার্মেন্ট কারখানা হেলে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীসহ গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, চাঁদপুর, শেরপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া মেহেরপুর, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, রাজবাড়ীসহ সারা দেশে ভূকম্পন অনুভূত হয়। যুগান্তরের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, এসব এলাকায় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ভূকম্পন অনুভূত হয়। এ সময় নদী ও পুকুরের পানিতে ঢেউ খেলে। বাড়িঘর কেঁপে উঠে। এতে আতঙ্কিত মানুষজন রাস্তায় বেরিয়ে আসে।