বিজ্ঞান হলো ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ফলে কোন বিষয়ে প্রাপ্ত ব্যাপক ও বিশেষ জ্ঞান। বর্তমান বিশ্ব এবং এর প্রগতি নিয়ন্ত্রিত হয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে। আমাদের দেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। এখানেও যে অঙ্কুরিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের অনেক বিজ্ঞানী, তারই প্রমাণ রাখলেন সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি’র ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনীয় ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এদের মত দেশের অনেকেই অবদান রাখতে পারবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

ক্লাস্টার কম্পিউটার হচ্ছে স্বাধীনভাবে যুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটারের একসাথে কাজ করার একটি পদ্ধতি, যেখানে ক্লাস্টারের অংশবিশেষ একে অপরের সাথে দ্রুত স্থানীয় এরিয়া নেটওয়ার্ক দ্বারা সংযুক্ত থাকে, যার প্রতিটি নোড তার নিজের অপারেটিং সিস্টেমের দ্বারা চালিত হয়ে থাকে। ক্লাস্টার কম্পিউটার অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় খুব কম ছাত্রছাত্রীরা এটি ব্যবহার করার সুযোগ পায় অথচ গবেষণা কাজে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং ক্লাস্টার কম্পিউটার সুপার কম্পিউটারের ছোট রূপ।

সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি’র ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তৈরি করলেন দেশের প্রথম রাসবেরী পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার। বাংলাদেশে এর আগে ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরি করা হলেও রাসবেরী পাই দিয়ে তৈরি ক্লাস্টার কম্পিউটার এই প্রথম। আর এ প্রকল্পের পুরোভাগে ছিলেন তরুণ গবেষক ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি’র ‘ইইই’ বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল।

আর রাসবেরী পাই হলো এক ধরণের সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার যা বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ ধরণের কম্পিউটারের প্রসেসর, র‌্যাম ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি একটি বোর্ডের মধ্যেই থাকে। আর এর অপারেটিং সিস্টেম অনেকটা লিনাক্সের মত। ইংল্যান্ডের রাসবেরী পাই ফাউন্ডেশন ২০১২ সালে এটি তৈরি করে।

বহির্বিশ্বে রাসবেরী পাই ক্লাস্টার কম্পিউটিং অনেক জনপ্রিয় হলেও দেশের এর ব্যবহার না থাকায় এবং প্যারালাল কম্পিউটিংকে জনপ্রিয় করার মাধ্যমে গবেষণা কাজের পথকে সুগম করতে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘ইইই’ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খুবই কমদামে রাসবেরী পাই দিয়ে এই ক্লাস্টার কম্পিউটার তৈরি করেন। এখানে ৪টি রাসবেরী পাই কম্পিউটার একত্রিত করে ক্লাস্টার কম্পিউটারটি বানানো হয়, তবে চাইলে ৩২টি কম্পিউটার একসাথে করা যাবে।

এ প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসেবে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের প্রভাষক ও তরুণ গবেষক সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল রাসবেরী পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার প্রসঙ্গে বলেন, ক্লাস্টার কম্পিউটার মূলত গবেষণা কাজে যেখানে অনেক বেশি প্রসেসিং পাওয়ার দরকার সেখানে কাজে লাগে। আমাদের বানানো ক্লাস্টার কম্পিউটারের প্রসেসিং স্পিড বেশি না হলেও, কিভাবে ক্লাস্টার কম্পিউটার কাজ করে, তা শিক্ষার্থীদের কম খরচে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এটি বানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য এই প্রজেক্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা যেন কম খরচে সুপার কম্পিউটিং শিখতে পারে, সে জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা। আর এ প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে ছিলেন দেশবরেণ্য লেখক-গবেষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

এ প্রকল্পের সুপারভাইজার রেজওয়ানুল হক নাবিলের সাথে দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন এই বিভাগের শিক্ষার্থী স্বজন দেবনাথ, ইন্তেজাম আহমেদ প্রিনন, শাকিল আহমেদ চৌধুরী, জয় রায় ও আখলাকুজ্জামান আশিক।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির এই গবেষণা দলটি, এর আগেও সার্ভার সিনক্রোনাইজড ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (এসএসইভিএম) ও আনম্যানড সাবমেরিন নির্মাণ করেছে। তাছাড়া শাবিপ্রবির সাথে যৌথভাবে ড্রোণ নির্মাণ ও এর উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির গবেষণা দল।

রাসবেরী পাই ক্লাস্টার কম্পিউটার প্রকল্পটি মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অর্থায়নে একটি অপেন সোর্স প্রকল্প। বাংলাদেশের প্রথম রাসবেরী পাই ক্লাস্টার কম্পিউটারটি বর্তমানে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন ল্যাবে গবেষণা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।