দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যার সমাধান কঠিন। জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ অসম্ভব।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পাসপোর্ট ও ভূমিখাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। এগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংকিং খাত। তবে ক্রমেই এর পরিবর্তন হচ্ছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক দেশব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

দুর্নীতির মামলায় শাস্তির হার বেড়েছে জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুই থেকে তিন ভাগ জিডিপি নষ্ট হচ্ছে এ দুর্নীতির কারণে। আমরা চাই গোড়া থেকেই দুর্নীতি নির্মূল হোক। এক সময়ে দুদকের মামলায় শাস্তির হার নেমে এসছিল ২০ শতাংশে। কিন্তু এ বছর ৫৪ শতাংশ মামলায় আমরা শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছি। যা দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। আশা করছি, আগামীতে শাস্তির হার আরও বাড়বে।

সরকারের অকুণ্ঠ সমর্থনে দুদক এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমোলমতি শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থানে সংহতি প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীরা এটা মনে রাখবে। আর আগামী প্রজন্মের মধ্যদিয়েই দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে। আগামীতে এই শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সৎ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে।

দেশের ৬৪ জেলায় এ মাবনবন্ধন হয়। সারা বাংলাদেশে আড়াই লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে শিক্ষক-অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে মানববন্ধনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা মহানগরের উত্তরা থেকে ফার্মগেট-বাংলামোটর-শাহবাগ-মৎস ভবন-কাকরাইল মোড়-বিজয়নগর হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ, এএফএম আমিনুল ইসলাম, দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল, ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, দুদকের মহাপরিচালক ড. মো. শামছুল আরেফিন, পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, সৈয়দ ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় সততা সংঘের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অশংগ্রহণে অড়াই লাখের বেশি মানুষ দেশব্যাপী এ কর্মসূটিতে অংশ নেয়।