থাইল্যান্ডে আবিস্কৃত অভিবাসীদের গণকবরে কোনো বাংলাদেশী ছিল কি-না তা জানার সুযোগ নেই। কেননা অবৈধভাবে আসা এসব অভিবাসীর বায়োমেট্রিক কোনো তথ্য পাসপোর্টের মাধ্যমে সংরক্ষিত নেই। এছাড়া উদ্ধারকৃত দেহাবশেষগুলোকে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে তাদের পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করতে হবে যা অসম্ভব একটি ব্যাপার।

ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাথে আলাপকালে এ কথা জানান। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে সাম্প্রতিক সঙ্কটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দারুনভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষ জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশের এমন কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে তাদের নাগরিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে অন্য দেশে আসতে হচ্ছে।
কর্মকর্তাটি জানান, আগামী ২৯ মে ব্যাংককে অভিবাসীদের ওপর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সম্মেলনে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
চলতি মাসের শুরুতে মালয়েশিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন থাইল্যান্ডের সাডাও জেলার গভীর জঙ্গলে থাই কর্তৃপক্ষ ৩২টি দেহাবশেষ আবিষ্কার করেছে যারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসীরা মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য থাইল্যান্ডকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু তার আগে মানবপাচারকারীরা থাইল্যান্ডের জঙ্গলে তাদের জিম্মি করে দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ দিতে অপারগ হলে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়, যা ক্ষেত্র বিশেষে প্রাণহানী পর্যন্ত গড়ায়।