তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারাভিযান

0
210

তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারাভিযান। ক্ষমতাসীন ও অন্যান্য দল সমর্থিত প্রার্থীরা মঙ্গলবার থেকেই পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন। মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে। তবে ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপি সমর্থিত ও প্রত্যাশী প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে ছিলেন অনুপস্থিত। আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে এখন পর্যন্ত ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থীই চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। দলটি দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তার প্রচারে নামেননি। বিএনপির অভিযোগ- থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সক্রিয় নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতংকে এখনও প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারছেন না। আবার যারা জামিন পাচ্ছেন তাদের অনেককে কারা ফটক থেকেই আটক করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটিতে মাঠে নামতে না পারলেও চট্টগ্রামে পুরোদমে প্রচারে নেমেছে বিএনপি। মঙ্গলবার সারা দিন কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান।

এদিকে প্রথম দিনেই ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘন করে প্রচারের অভিযোগ ওঠেছে।

 ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন : প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দিনভর প্রচারণা চালিয়েছেন। নির্বাচনে জয় পেতে ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন তারা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীতে মায়ের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক। মায়ের কবরস্থান থেকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপরই রায়ের বাজার বধ্যভূমি, সাভারের স্মৃৃতিসৌধ এবং বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। পরে তিনি কারওয়ান বাজারসংলগ্ন বস্তিতে প্রচারণা চালান।

জাতীয় পার্টি সমর্থিত উত্তরের প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল সকাল সাড়ে ১০টায় আবদুল্লাহপুর মোল্লা এস্টেটে মা-বাবার কবর জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন। পরে তিনি উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করেন। বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। জাসদ সমর্থিত প্রার্থী নাদের চৌধুরী সন্ধ্যা ৭টায় উত্তরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে প্রচারণা শুরু করেন। উত্তরের মেয়র প্রার্থী জোনায়েদ সাকী সকাল সাড়ে ১০টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের পুত্র ববি হাজ্জাজ আজ দুপুর ১টায় মিরপুর শাহ আলী দরবার শরিফ মাজার থেকে প্রচারণার কার্যক্রম শুরু করবেন। এ সিটির মেয়র প্রার্থী বিকল্পধারার নেতা মাহী বি. চৌধুরী নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

প্রচারণার শুরুতেই আচরণবিধি লংঘন সাঈদ খোকনের : আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনেই আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ উঠেছে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের যাত্রাবাড়ী প্রবেশমুখে পথসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাস্তায় তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন পথচারীরা। ফ্লাইওভারের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক গাড়ি যানজটে আটকা পড়ে। এ সময় সাঈদ খোকনের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ ও ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা।

 আচরণবিধি লংঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, জনসংযোগ চলাবস্থায় ৩০-৪০ সেকেন্ডের জন্য রাস্তা আটকাতে পারে। তবে আচরণবিধি লংঘন যাতে না হয়, সে ক্ষেত্রে আমি সচেতন রয়েছি। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, প্রচারণার বিষয়টি না দেখে মন্তব্য করা যাবে না। বিষয়টি আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব।
জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবনি শংকর মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু ফ্লাইওভারটি তার বাবার নামে সেই কারণে ভিত্তিপ্রস্তরস্থলে তার (সাঈদ) বাবার নাম রয়েছে সেখানে মোনাজাতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন। সাঈদ খোকন সেখানে ৩-৪ মিনিট অবস্থান করেন। তার আসা উপলক্ষে এখানে কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জনসংযোগ চলাকালে মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন নির্বাচিত হলে ঢাকাবাসীর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গের অঙ্গীকার করে বলেন, সুযোগ পেলে ঢাকাকে বিশ্বমানের নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। বাবার নামে করা ‘হানিফ ফ্লাইওভার’ থেকে আমার নির্বাচনী প্রচার শুরু করলাম। আমার পিতা যেভাবে ঢাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, নির্বাচিত হলে আমিও ঢাকাবাসীর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করব।
এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন। সেখান থেকে চানখাঁরপুল এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ চালান সাঈদ খোকন। পরে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পে মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন তিনি। এ সময় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকসহ মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন। এদিকে সাঈদ খোকনের পক্ষে প্রচার কার্যক্রম চালাতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম সুলতান আহমেদকে প্রধান সমন্বয়কারী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবর রহমান ও দফতর সম্পাদক একেএম শামসুদ্দিনকে সমন্বয়কারী করে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করে লালবাগ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। লালবাগের অলিগলি পেরিয়ে শহীদ নগর পর্যন্ত গণসংযোগ চালান মিলন। এ সময় মিলন বলেন, নাগরিক সমস্যা সমাধান করাই আমার প্রথম লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ আমাকে যে সমর্থন দিচ্ছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট।

 আইনি প্রক্রিয়ায় উত্তরে বিলম্ব, দক্ষিণে জামিন পেয়ে নামবেন আব্বাস : তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীরা সোমবার থেকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার মারপ্যাঁচে পড়ে এখনও উত্তরের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারছে না বিএনপি। আবদুল আউয়াল মিন্টুকে উত্তরে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। কিন্তু সামান্য ভুলে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করে। কিন্তু সেখানেও প্রার্থিতা বাতিলের রায় বহাল থাকে। পরে উচ্চ আদালতে এর বিরুদ্ধে রিট করেন মিন্টু। সোমবার শুনানি শেষে মিন্টুর রিট খারিজ করে দেন আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে সোমবার আপিল করা হয়। কিন্তু আপিলের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। মিন্টুর প্রার্থিতার বিষয়টি ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত উত্তরে মেয়র পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএনপি।

জানা গেছে, মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়ালের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু পরে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করে সোনালী ব্যাংক। সোমবার এ আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল কর্তৃপক্ষ।

 এদিকে দক্ষিণেও মেয়র পদে মির্জা আব্বাসকে সমর্থন করা হলেও মামলা থাকায় এখনও তিনি প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। জামিন পাওয়ার পরই তিনি প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। আব্বাসের জামিন পাওয়ার আগে তার সমর্থক এমনকি বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীরাও ভোটের প্রচারে নামতে সাহস পাচ্ছেন না। আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামার পর আইনশৃংখলা বাহিনী নানা ধরনের হয়রানি করতে পারে এমন আশংকা এখনও রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রচারে না নামলেও সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছেন আব্বাসের ঘনিষ্ঠজনরা। ইতিমধ্যে নির্বাচনী পোস্টার ও লিফলেট ছাপানোর অর্ডার দেয়া হয়েছে। আব্বাসের বিশ্বস্তদের দিয়ে গঠন করা হচ্ছে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কয়েকটি কমিটিও। আজ আব্বাসের পক্ষে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস প্রচারণা শুরু শুরু করবেন।

আচরণবিধি লংঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা -ইসি : সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রার্থী বা সমর্থক আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আবারও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে তিনি আরও বলেন, প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছেন। আর দু-তিন দিন পর প্রতীকসহ প্রচারণা করতে পারবেন। প্রচারণা চালানোর বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। তবে তা অবশ্যই আইনসঙ্গত হতে হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি সঠিকভাবে মানতে হবে। কেউ বিধি ভঙ্গ করলে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে কিছু প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটা চলমান থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আইন অনুযায়ী সব ক্ষমতা দেয়া আছে জানিয়ে শাহ নেওয়াজ বলেন, রির্টানিং কর্মকর্তা এসব দেখবেন। তবে আইনি সহায়তাসহ অন্য কোনো সহায়তার দরকার হলে আমরা সহায়তা করব।

 চট্টগ্রামে সব প্রার্থী মাঠে : যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন প্রার্থী মনজুর আলম দুপুর থেকে প্রচারণা শুরু করলেও আওয়ামী সমর্থিত নাগরিক কমিটি প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রচারণা শুরু করেছেন সন্ধ্যার পর। প্রথম দিনে ১২ মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছেন। এদিকে প্রচারণার প্রথম দিনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম নিজ বাসায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেও মাঠে বের হননি। তবে তার পক্ষে মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মাঠে নেমে প্রচারণা চালিয়েছেন।

মনজুর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। মঙ্গলবার বিকালে হালিশহর নতুনবাজার এলাকায় নির্বাচনী পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ চালান। এ সময় তিনি ব্যবসায়ী, দোকানদার, পথচারীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং এম মনজুর আলমের পক্ষে ভোট চান। পথসভায় নোমান বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে আমরা আচরণবিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। কিন্তু সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থী পদে পদে আচরণবিধি লংঘন করে চলেছেন। সরকারি কর্মকর্তা, বাইরের মন্ত্রী-এমপিরা চট্টগ্রামে এসে নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহশ্রমবিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন, বিএনপি নেতা কাজী আকবর, নগর যুবদলের সভাপতি কাজী বেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

 অপরদিকে মনজুর আলমের পক্ষে বিকালে আগ্রাবাদ এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ করেছেন নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিভিন্ন দোকান, পথচারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মনজুর আলমের জন্য ভোট চান।

এদিকে মঙ্গলবার বিকালে একটি কমিউনিটি সেন্টারে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন। তবে তার মূল প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা রাত ১২টা ১ মিনিটে নাগরিক কমিটির নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে। এতে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ইছহাক মিয়া, সদস্যসচিব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। নাগরিক কমিটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত আজ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন আ জ ম নাছির। সকালে মাকে সালাম করে বাবার কবর জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে গিয়ে তিনি হজরত আমানত শাহ (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা, পথসভাসহ জোরালো প্রচারণায় নামবেন।