আগামী বাজেটে তামাকজাত পণ্যের উপর আরো বেশি ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন তামাক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এমন প্রস্তাব দেন। তামাক বিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস এ সংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স আরোপ করলে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমবে এবং রাজস্ব বাড়বে। উন্নত দেশুগুলোতে এমনই উদাহরণ রয়েছে। তাই আগামী বাজেটে তামাক পণ্যের উপর অধিকহারে ট্যাক্স আরোপ করলে সরকার লাভবান হবে।

সাবের হোসেন আরো বলেন, ‘তামাক পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট পলিসি থাকা দরকার। ক্ষতিকর এ পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে তাদের ক্ষতি করব কিনা সেটিও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।’

তিনি জানান, এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করে সরকারের এ খাত থেকে প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। এ আয়ের একটি অংশ দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণে তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

নাটক সিনেমায় তামাক বিরোধী বিজ্ঞাপন বেশি করে প্রচারের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ টিভি নাটক ও সিনেমা দেখেন। যদি সব নাটক সিনেমাতে  তামাকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা যায় তাহলে একসঙ্গে অনেক মানুষের কাছে এ ম্যাসেজ পৌছানো সম্ভব।’

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘ধুমপান করলে  আনস্মার্ট লাগবে- এমন কিছু যদি বিজ্ঞাপন, নাটক ও সিনেমায় প্রচার করা হয় তাহলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।’

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ট্যাকনিকাল অফিসার ডা. মাহফুজুল হক বলেন, ‘সরকারের রাজস্বের ২০ শতাংশ আয় আসে তামাক কোম্পানিগুলো থেকে। ফলে সরকার তামাক কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে দ্বিধাদ্বন্দে ভোগে।’

এসময় সরকারে প্রতি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) কান্ট্রি ডিরেকটর তাইফুর রহমান বলেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলোকে সাধারণ কোম্পানি ভাবলে হবে না। এগুলোতে স্বাভাবিক কাজ সংঘটিত হয় না। এসব কোম্পানির কর্মকাণ্ডের ফলে মানুষ মৃত্যুর দিকে পতিত হয়।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মো আহসানুল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ প্রমুখ।