ঢাকা সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ পেতে জোর প্রচেষ্টা চালাবেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপি চেয়ারপারসন প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

দলের কূটনৈতিক তৎপরতায় সম্পৃক্ত নেতাদের এরইমধ্যে এ ব্যাপারে ‘সিরিয়াস’ হওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিএনপির কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কাজ করেন এমন কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, সরকার ও বিরোধী দলের বাইরে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া খুব ভালো করেই জানেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির আসন্ন ঢাকা সফরের সময় আনুষ্ঠানিক কোনো সিডিউল তিনি (খালেদা) পাচ্ছেন না।

সরকার প্রধান ও বিরোধী দলের নেতা ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন প্রধানের সঙ্গে সফররত কোনো সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা সিডিউল না থাকার বিষয়টিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদের বাইরে থাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ না পেলেও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে অনানুষ্ঠানিক বা সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ ছিলে খালেদা জিয়ার জন্য।

কিন্তু ২০১৩ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশ সফরের সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে যে ‘অসৌজন্যতা’ খালেদা জিয়া দেখিয়েছেন সে বিষয়টি ভুলে যাননি কট্টর জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নরেন্দ্র মোদী।

তাছাড়া প্রণব মুখার্জিকে কংগ্রেস নেতা হিসেবে না দেখে ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবেই দেখে আসছেন মোদী। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে প্রণব মুখার্জির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে জাতীয়তাবাদ ও সৌজন্যবোধের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করা মোদীর সাক্ষাৎ সহজে পাবেন এমনটি ভাবছেন না খালেদা নিজেও।

কিন্তু এই মুহূর্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ না পেলে নিজের ও বিএনপির রাজনীতির জন্য বড় ধরনের ‘কূটনৈতিক ধাক্কা’র বিষয়টিও ভাবিয়ে তুলেছে তাকে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া মনে করেছিলেন, ভারতের কংগ্রেস আমলের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে ‘অসৌজন্যতা’ দেখানোর বিষয়টি আমলে নেবে না বিজেপি সরকার।

কিন্তু গত বছর ঢাকা সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের আনুষ্ঠানিক সিডিউল না পেয়ে বিজেপি সরকারের কাছ থেকে প্রথম ধাক্কাটি খান বিএনপি প্রধান, পরে অবশ্য অনেকটা ‘অযাচিতভাবে’ হোটেল লবিতে দীর্ঘ সময় বসে থেকে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলার সুযোগ পান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে এবার আগে-ভাগেই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময়সূচি নিশ্চিত করতে চান খালেদা জিয়া।

এ লক্ষে দলের কূটনৈতিক বিষয়াদি দেখা-শোনা করেন, এমন নেতাদের নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে সিরিয়াসলি কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে শমসের মবিন চৌধুরী কারাগারে এবং রিয়াজ রহমান অসুস্থ থাকায় নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতি খুব একটা ভালো হচেছ না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদকে দিয়ে আপাতত কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। বিএনপির এই দুই নেতা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের ব্যবস্থা করতে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবিহ উদ্দিন আহমে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেহেতু রাষ্ট্রীয় সফরে আসছেন, সেহেতু সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা। তবে আমরা চেষ্টা করবো মোদীর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ যেন হয়।