ঢাকার উত্তাপ ৫ ডিগ্রি কমিয়ে আনা সম্ভব

0
185

রাজধানীতে প্রতি পাঁচ জনে একটি গাছ লাগালে আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকার উত্তাপ ৫ ডিগ্রি কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়রপ্রার্থী আনিসুল হক।

মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামের সামনে দশম দিনের প্রচারণায় ‘স্বাস্থ্যকর ঢাকা’ শীর্ষক জনসংযোগ কালে তিনি একথা বলেন।

জনসংযোগের সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপুমনি, স্থানীয় সাংসদ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, আনিসুল হকের সহধর্মিনী রুবানা হক, পুত্র নাভিদুল হক এবং মিরপুর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আনিসুল হক বলেন, ‘রাজধানীতে গাছ লাগানোর বিষয়ে ইতিমধ্যেই বিদেশী একটি সংস্থার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। এক্ষেত্রে অর্থ কোনো বাধা নয়। প্রয়োজন শুধু উদ্যোগের।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকাকে নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত হলে সেসব কাজ করবো। এর মধ্যে ঢাকার উত্তাপ কমানো অন্যতম একটি কাজ বলে।’

মিরপুরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলিঙ্গন আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে শুরু হয় তার স্বাস্থ্যকর ঢাকা শীর্ষক কর্মসূচি। অনেকেই এ সময় আনিসুল হককে সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যতে তাদের জন্য কাজ করার অনুরোধ জানান।

ইনডোর ষ্টেডিয়ামের সামনে একজন বয়স্ক চা বিক্রেতা আনিসুল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার কাছে অনুরোধ ভোটে জিতলে আমাদের দেখবেন। আমরা যেনো ভালোমত বাঁচতে পারি সেই ব্যবস্থা করবেন।’

এসময় আনিসুল হক দরিদ্র্য মানুষের জন্য কাজ করবেন বলেন প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে গতকাল ইউএনডিপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনিসুল হকের ইশতেহার অন্তঃসারশূন্য তাই অন্য প্রার্থীদের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিকল্পধারা প্রার্থী মাহি বি চৌধুরী। এই বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকরা আনিসুল হকের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা এসব বলছেন তাদের বলতে চাই, অপপ্রচার থেকে বেরিয়ে আসুন। আসুন আমরা সবাই পরস্পরের বন্ধু হয়ে সবুজ-সুন্দর ঢাকা গড়ি।’

তিনি আরো বলেন, ‘চারদিন আগেও মাহী আমার সম্পর্কে বলেছে, আমি অমায়িক, অসাধারণ, সৎ, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। চারদিনের মধ্যে এমন কী ঘটে গেল তিনি আমাকে ‘রক্তচোষা’ বলে গালি দিচ্ছেন? তরুণরা যদি একে অন্যকে খোঁচাতে থাকে, তাহলে দেশকে, ঢাকাকে নেতৃত্ব দেবে কিভাবে? তারা যদি গালাগালিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে তাহলে স্বপ্ন দেখবো কাদের নিয়ে?’

আনিসুল হক বলেন, ‘কুৎসা, অপপ্রচার আর পারস্পরিক বিদ্বেষ প্রচারের রাজনীতি করে তারা রাজনীতির কোন গুণগত পরিবর্তন করার কথা বলছেন? নির্বাচনী বিতর্কে অংশগ্রহণ করার চেয়ে আমার জন্য সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌছানো জরুরি। তাই আমি গতকাল বিতর্কে অংশ না নিয়ে কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ শেষে তিনি মিরপুর-১০ গোলচত্তর হয়ে সি ব্লক কাঁচাবাজার, বেনারশী পল্লী, পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সামনে দিয়ে জনসংযোগ করেন।

এর মধ্যে সি ব্লকে অনেক লোক জড়ো হলে আনিসুল হক সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি আনিসুল হক। আপনাদের কাছে এসেছি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী হয়ে। আমি মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে অনেক কষ্ট করে সামনে দিকে এগিয়ে এসেছি। আমি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এখন আমি জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আপনারা আমাকে ঘড়ি মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানাই। নির্বাচিত হলে আমি আমার ব্যবসা থেকে ৫ বছরের জন্য ছুটি নিয়ে জনগণের জন্য কাজ করবো।
জনসংযোগকালে তিনি সাধারণ দোকানদার, ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সবার কাছে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান।

মিরপুরে আনিসুল হকের স্বাস্থ্যকর ঢাকা কর্মসুচীতে যোগ দেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার, শারমীন লাকী, অভিনেতা আরমান পারভেজ মুরাদ, অভিনেত্রী হোমায়রা হিমু, বাঁধনসহ অনেকেই।

মিরপুর জনসংযোগ শেষে আনিসুল হক দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ভবনে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। সেখানে ক্রীড়া সংগঠকরা ঢাকার বেদখল হয়ে যাওয়া মাঠ উদ্ধার করে দেয়ার দাবী জানান। আনিসুল হক বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ, শিক্ষা ও বিনোদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবো।’

বিকেলে খিলক্ষেত এলাকায় গণসংযোগ করেন আনিসুল হক। কুর্মিটোলা স্কুল ও কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে বটতলা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যায় রাজধানীর এলজিইডি ভবনে প্রকৌশলীদের মত বিনিময়ের করেন ঢাকা উত্তরের এই মেয়রপ্রার্থী।