বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনেই বেসামাল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ। দুই গ্রুপে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পদদলিত করা হয় খোদ নেতার ছবিই। বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ভাঙচুর করার সঙ্গে অমর্যাদা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবিরও।

Barisal-Shek-Mujib-Birthday-Crush-BM-up02

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে বরিশালে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।

সূত্রমতে, গৌরনদী উপজেলার একটি সড়কের সংস্কার কাজের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র হারিচুর রহমান হারিচের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে পৌর মেয়র হারিচুর রহমানের বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা আকবর হোসেন খানকে লাঞ্ছিত করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পিকলুর অনুসারীরা।

এতে ক্ষুব্ধ পৌর মেয়র দুই থেকে আড়াইশ’ নেতাকর্মী নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদে টাঙানো বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ভাঙচুর করে মাটিতে ফেলে দেয় পৌর মেয়রের অনুসারীরা। এ হামলায় আহত হন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু সমর্থিত ১০ নেতাকর্মী। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় জড়িত পৌর মেয়রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে একটি পক্ষ বিক্ষোভ মিছিলও বের করে। একই সঙ্গে ঘটনার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করায় গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেনের প্রত্যাহার দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্যাহ ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেছেন। সেই সঙ্গে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পৌর মেয়র হারিচুর রহমান হারিচ।

সূত্র: বাংলামেইল