গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির জন্য দাবি

0
163

২৫ মার্চ শহীদদের স্মরণে বুধবার রাতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ-৭১, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নানা কর্মসূচির মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্তরা এই দাবি তুলেছেন।

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২৫ মার্চের ওই রাতে ঢাকা শহরে ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মতো ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসকসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বাধিক হত্যাকাণ্ড।

“পৃথিবীর আর কোনো দেশে যাতে এ ধরনের নৃশংসতা না হয়, সেজন্য আমরা এর বিচার চাচ্ছি এবং এই রাতটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা (জেনোসাইড) দিবস হিসেবে স্বীকৃতি চাচ্ছি।”

images

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ ভোটে জিতলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ছিল না পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী। এর মধ্যেই ৭ মার্চ বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বন্দি হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, যার পথ ধরে নয় মাসের রক্তাক্ত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা, বিশ্বমানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয় বাংলাদেশ।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ভারত, জাপান, মোক্সিকোসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জনগণ ২৫ মার্চকে ‘জেনোসাইড ডে’ পালনের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইউনেস্কোসহ এধরনের আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার দাবি জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

স্বীকৃতি না থাকার কারণে পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ওই গণহত্যা নিয়ে ভুল বার্তা যাচ্ছে দাবি করে শাহরিয়ার কবির বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের অনেক দেশে বাংলাদেশের ওই ঘটনাকে ফরগটেন জেনোসাইড হিসেবে বলা হচ্ছে। অনেকে একে সিভিল ওয়ারও বলছে।”

download (5)

কালরাত স্মরণে বুধবার রাত ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৪৪টি মশাল প্রজ্জ্বলন ও আলোর মিছিল করে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি। মুক্তিযুদ্ধের সময়নায়ক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন। এছাড়া মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, স্মৃতিচারণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।