আসন্ন ঢাকা সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির সাক্ষাৎ পাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামী ৭ জুন রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ সাক্ষাৎ হবে।

তবে সরকার ও বিরোধী দলের বাইরে থাকা বিএনপি প্রধানের সঙ্গে ভারতীয় সরকার প্রধানের এই সাক্ষাৎ আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মর্যাদা পাচ্ছে না। স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই থাকছে।

আগামী ৭ জুন সকালে সোনারগাঁও হোটেলে গিয়ে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

সৌজন্য সাক্ষাতে নিজের দল সম্পর্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ইতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।

আজন্ম ভারতবিরোধী রাজনীতির ধ্বজাধারী খালেদা জিয়ার এবারের প্রধান এজেন্ডা কট্টর জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নরেন্দ্র মোদিকে এমন ধারণা দেওয়া যে, ‘বিএনপি ভারত বিরোধী নয়।’

বিএনপির কূটনৈতিক কোরের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় দলটির কূটনৈতিক কোরের কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পারিবারিক কাজে ব্যস্ত আছি।

সূত্র জানায়, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক বাতিলের  আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নেওয়া খালেদা জিয়া এবার শুরু থেকেই সতর্ক। ফলে  জামায়াতঘেঁষা বা হঠাৎ বিএনপির কাণ্ডারি হয়ে ওঠা সুবিধাবাদীদের সঙ্গে মোদির সফর নিয়ে কোনো আলোচনায় যাননি তিনি।

বরং দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত সহকর্মী কূটনৈতিক কোরের অন্যতম সদস্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে দায়িত্ব দেন মোদির সঙ্গে সিডিউল ঠিক করার।

সূত্রমতে, কূটনৈতিক কোরের অন্যতম সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী কারাগারে থাকা অবস্থায় (তিনি এখন জামিনে মুক্ত) দায়িত্ব পেয়ে মোদির সঙ্গে খালেদার সৌজন্য সাক্ষাতের সিডিউল আদায়ে তোড়জোড় শুরু করেন ড. আব্দুল মঈন খান।

এ কাজে তাকে সার্বিক সহযোগিতা দেন কূটনৈতিক কোরের অপর দুই সদস্য বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ।

এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টুও নিজের অবস্থান থেকে মোদি-খালেদার বৈঠকের ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় ইন্ডিয়ান হাইকমিশন ও দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের সিডিউল ফিক্সড করতে সক্ষম হন বিএনপির কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা।

এদিকে মোদির সঙ্গে বৈঠকের সিডিউল ঠিক হওয়ার আগেই আলোচসূচি বা এজেন্ডা ঠিক করে নেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

কূটনৈতিক কোরের সদস্য ছাড়াও দলের আস্থাভাজন ও ফরেন পলিসি বোঝেন এমন কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সূত্র জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ‘‘বিএনপি ভারত বিরোধী নয়’’- এ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির অপরিহার্যতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা না করে যে ভুল তিনি করেছেন সেটিও অকপটে স্বীকার করবেন খালেদা জিয়া।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর গণতন্ত্র চর্চায় সহায়তা ও পরামর্শ দানের অনুরোধও জানাবেন বিএনপি প্রধান।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগেরও অনুরোধ করবেন খালেদা জিয়া।

আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূল, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন থেকে দূরে থাকা, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টিও তুলে ধরবেন তিনি।

এ ছাড়া ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং কারাগারে আটক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়টিও গুরুত্বে সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ জানাবেন খালেদা জিয়া।

সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, স্থলসীমা চুক্তি পাস, দু’ দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণ খাতে আর্থিক ঋণ সহায়তাসহ গত কয়েক বছর ঘটে যাওয়া ইতিবাচক ঘটনাগুলোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জ্ঞাপনের কাজটিও সেরে রাখতে চান খালেদা জিয়া।

তবে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে এসব এজেন্ডা উপস্থাপনের সুযোগ বিএনপি প্রধান পাবেন কি না সে বিষয় নিয়ে ক্ষোদ দলের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। কারণ, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা ঢাকায় নরেন্দ্র মোদির সব অনুষ্ঠান-ই কাট-ছাট করে সংক্ষিপ্তাকার দেওয়ার চেষ্টা করছেন।