যত দিন যাচ্ছে একের পর ভারত মহাসাগরে নৌকায় ভাসমান রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের দুর্দশার ততো প্রকট চিত্র বের হয়ে আসছে। মাসের পর মাস সাগরে ভেসে থাকা এসব অভিবাসীরা শেষ খাবারটুকু জন্য নিজেদের মধ্যে লড়াই পর্যন্ত করছে। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে প্রায় একশ অভিবাসী। বার্তা সংস্থা বিবিসি এক প্রতিবেদনে রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার  ইন্দোনেশিয়া উপকূল থেকে ৭শ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীকে উদ্ধার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব অভিবাসীদের মানবপাচারকারীরা নৌকায় করে মালেয়শিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল। দুই মাস সাগরে ভাসমান থাকার পর নৌকার চালক ও তার সহযোগীরা আরেকটি  নৌকায় করে পালিয়ে যায়। গত সপ্তাহে নৌকাটি মালেয়শিয়া উপকূলে পৌছলে দেশটির নৌবাহিনী তাদের ফের সাগরে ফিরিয়ে দেয়। পরে জেলেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদেরকে উদ্ধার করে ইন্দোনেশিয় কর্তৃপক্ষ। তাদেরকে উপকূলীয় লাংসা এলাকার একটি ওয়্যারহাউজে রাখা হয়েছে। এরা সবাই অপুস্টি ও পানিশূন্যতায় ভুগছে।

নৌকার যাত্রীরা জানিয়েছেন, তারা দু’মাস সাগরে ভাসছিলেন। খাবার যখন শেষ পর্যায়ে তখন সেই শেষ সম্বলটুকু দখল করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন তারা। এ সংঘর্ষে প্রায় ১শ জন নিহত হয়।

বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে তিনজন জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালে কাউকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, কাউকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবার কাউকে সাগরে ছুড়ে ফেলা হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে মালেয়শিয়া ও ইন্দোনেশিয়া তাদের উপকূল থেকে মানবপাচারকারীদের প্রতারণার শিকার দুই হাজার অভিবাসীকে তাদের উপকূল থেকে ফিরিয়ে দেয়। এসব অভিবাসীকে থাইল্যান্ডও তাদের উপকূলে ভীড়তে দেয়নি। এসব ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয় আর্ন্তজাতিক মহলে।

এদিকে মিয়ানমার সাফ জানিয়ে দিয়েছে রোহিঙ্গা অভিবাসী সঙ্কটে তাদের কোন দায় নেই। কারণ রোহিঙ্গারা তাদের নাগরিক নয়। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, অভিবাসী সঙ্কট নিয়ে ২৯ মে থাইল্যান্ডে যে সম্মেলনের আহ্বান করা হয়েছে তারা তাতে যোগ নাও দিতে পারে।