শিগগিরই ঢাকা মহানগরে দুই কমিটি দিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগরের দুই ভাগে গঠন করা কমিটি এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। যে কোনো দিন এ কমিটির ঘোষণা হতে পারে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ মাসের শেষের দিকে কমিটি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই ভাগে বিভক্ত সম্ভাব্য কমিটিতে অপেক্ষাকৃত তরুণ, ত্যাগী ও দলে পরীক্ষিতরাই আসছেন। সেই সঙ্গে বাদ পড়ছেন দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থাকা রাঘব-বোয়ালরা। সিটি করপোরেশন দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিকভাবে মহানগর আওয়ামী লীগকে দুভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্লিন ইমেজের অপেক্ষাকৃত, তরুণ, যোগ্য ও মেধাবীদের দিয়ে নতুন কমিটি সাজানো হচ্ছে। সিটি নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকায় থাকা নেতারাও বাদ পড়ছেন নতুন কমিটিতে। সূত্রমতে, সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নগর আওয়ামী লীগ নেতাদের রহস্যময় ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মাঠের নেতা-কর্মীরা। খোদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নেতাদের এসব কর্মকাণ্ড দেখে বিস্মিত হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে মাঠের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি আমলে নিয়েই মহানগরে নতুন নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন তিনি। অপেক্ষাকৃত পরিশ্রমী ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের দিয়েই মহানগরের দুই কমিটির নেতৃত্ব চূড়ান্ত করেছেন শেখ হাসিনা। কমিটির শীর্ষপদে এবার দেখা যাবে নতুন মুখ। পুরান ও বিতর্কিতদের এবার বিদায়ের পালা। সূত্র মতে, ঢাকা মহানগরীর কমিটি গঠনে শেখ হাসিনা অগ্রাধিকার দিয়েছেন মাঠের যোগ্য নেতাদের। সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও পরিশ্রমীরা ঠাঁই পাচ্ছেন মহানগর কমিটিতে। ক্ষমতার প্রায় সাড়ে ৬ বছরে দল ভাঙিয়ে যারা ব্যাপক চাঁদাবাজি ও দখল রাজনীতি করেছেন তাদের তালিকাও এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। নতুন কমিটিতে এসব নেতার কোনো ঠাঁই হচ্ছে না। কেবল ঢাকা মহানগরীর কমিটিই নয়, থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতেও বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার ব্যাপারে শেখ হাসিনার কঠোর মনোভাবের কথা জানা গেছে। সূত্রমতে, দুই ভাগে বিভক্ত নগর কমিটি অনেক আগেই ঘোষণার কথার ছিল। জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিএনপি-জামায়াতের টানা ৯৩ দিনের অবরোধ, হরতাল ও মারমুখী আন্দোলনের কারণে কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব হয়। সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনকে ঘিরেও নতুন কমিটি বিলম্বে ঘোষণার কৌশল নেওয়া হয়। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের বিজয়ের পর এবার দলকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে মনযোগী হয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শীর্ষপদে পুরান নেতৃত্ব বহাল রেখেই নতুন কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে। নানান জটিলতার কারণে আড়াই বছরেও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেননি আজিজ-মায়া। তিন বছর মেয়াদি এই সম্মেলনের শেষপ্রান্তে এসে অবশেষে মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি এখন ঘোষণার অপেক্ষায়। সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন কমিটি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল। নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে শেখ হাসিনা যেভাবে চমক দিয়েছেন একইভাবে নগর কমিটিতেও চমক থাকবে। মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত দলের উপদেষ্টা পরিষদের এক প্রভাবশালী সদস্য ও মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, চলতি মাসের যে কোনো সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সিটি নির্বাচ
নে দলীয় নেতাদের ভূমিকাও বিবেচনায় আসছে নতুন কমিটি গঠনে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি চূড়ান্ত হয়ে আছে। আমরা এখন একটি শক্তিশালী কমিটি দেখার অপেক্ষায়।