স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীসহ সাতজনকে হত্যার হুমকি দিয়েছে আল-কায়েদা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩।

মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক তিনটার দিকে পাঠানো এক চিঠিতে এ হুমকী দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ।
জানা গেছে, খয়েরী খামের একটি চিঠি দুপুরে সাবেক ভিসি এ কে আজাদ এর ঠিকানায় আসে। লাল কালিতে লেখা আলকায়েদা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তিনি সহ আরো সাতজনের নাম রয়েছে। সাতজনের চারজনই ঢাবি শিক্ষক।
এর মধ্যে সাবেক ভিসি ও বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ ছাড়াও আরো দুজন হচ্ছেন কলা বিভাগের ডিন ড: আখতারুজ্জামান ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও জহুরুল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবু মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
এছাড়াও এই লিস্টে আছেন বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও অভিনেত্রী শমী কায়সার।
চিঠিতে নামের লিস্টের উপরে লেখা ‘সেকেন্ড লিস্ট অব ডেথ’।  সবার নামের পরে লেখা আছে ‘মাস্ট ইউ উইল প্রিপেয়ার ফর ডেথ’। লিস্টের প্রতিটি নামের ডান পাশেই ভিন্ন ভিন্ন ট্যাগ লেখা আছে।
ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর নামের পাশে লেখা ‘ইসলামিক এনিমি’। এরপরেই আসাদুজ্জামান এর নামের পাশে লেখা ‘মিনিস্টার ট্রেইটর বিডি’।  ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন- অ্যান্টি ইসলাম রাইটার। অভিনেত্রী শমী কায়সার ‘নাস্তিক’। আবু মুসা মুহাম্মদ মাসুদুজ্জামান জাকারিয়া মাসুদ ‘অ্যান্টি ইসলাম.ওয়ার্কার’। প্রক্টরের নামের পাশে লেখা ‘ডিফেমার অব ডিউ’। সর্বশেষ ড. আখতারুজ্জামান এর নামের পাশে লেখা আছে ‘ইসলামিক এনিমি’।
চিঠি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যাবস্থা হিসেবে ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ জানান, এ কে আজাদ স্যারের কাছে চিঠি আসার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধানমন্ডি থানায় জিডি করেছি। তবে তিনি সহ আরো দুইজন শিক্ষকের নাম লিস্টে থাকলেও তাদের কাছে এখনো চিঠি আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীসহ দশজনকে হত্যার হুমকী দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল আল কায়েদা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩ নামের সংগঠনটি।