শুধু এপ্রিল মাসেই সারাদেশে ২৬০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এতে রহস্যজনক মৃত্যু, গুপ্তহত্যা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপহরণের করে হত্যা, ধর্ষণের পর হত্যাসহ বেশ কয়েকটি কারণসহ মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে কমিশন।

বৃহস্পতিবার কমিশনের সহকারী পরিচালক (গবেষণা ও জনসংযোগ) জাহানারা আক্তার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আমরা এসব তথ্য পেয়েছি। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, পৌরসভার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে কমিশনের ডকুমেন্টেশন বিভাগ এ অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। গত মার্চ মাসেও গড়ে প্রতিদিন ৯ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম আরো গতিশীল করার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড কমিয়ে শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবলমাত্র এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ২০৩ জনের মধ্যে যৌতুকের কারণে ৪ জন, পারিবারিক সহিংসতায় ৩৪ জন, সামাজিক সহিংসতায় ৪৮ জন, রাজনৈতিক কারণে ৮ জন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৯ জন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ হত্যা করেছে ৬ জন, চিকিৎসকের অবহেলায় ৪ জন, গুপ্তহত্যায় ১৫ জন, রহস্যজনক মৃত্যু ৬২ জন ও ধর্ষণের পর হত্যা ৫ জন এবং অপহরণ করে হত্যা ৮ জন।

এছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনার মধ্যে পরিবহণ দুর্ঘটনায় ২৬০ জন, আত্মহত্যা ৩৭ জন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২৯ জন মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপ্তিতে গত মার্চ মাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নির্যাতনের ঘটনাও জানানো হয়। এরমধ্যে ধর্ষিত হয়েছেন ২১ জন, যৌন নির্যাতন ৩ জন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ৪ জন, যৌতুকের জন্য হত্যা ৪ জন ও এসিড নিক্ষেপ করা হয় ২ জনকে।