সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেওয়া ভাস্কর্যটি অ্যানেক্স ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টা থেকে ভাস্কর্য বসানোর কাজ শুরু হয়। ভাস্কর মৃণাল হক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের কাজ তদারক করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভাস্কর মৃণাল হক বলেন, ‘থেমিসের সঙ্গে এই ভাস্কর্যের কোনও মিল নেই। এটি বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি। এটি কোনোভাবেই গ্রিক দেবী নয়।’

কেন হঠাৎ বাঙালি নারী প্রমাণে তিনি ব্যস্ত হয়ে উঠলেন প্রশ্নে মৃণাল হক বলেন, ‘আমি বরাবরই বলেছি, এটি কোনও দেবীর প্রতিকৃতি নয়। এটি বাঙালি নারী। তাহলে কেন এই বিতর্ক। এই বিতর্ক যে উঠবে, তা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম।’

গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য শনিবার রাত দেড়টার দিকে অ্যানেক্স ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে রাত আটটা থেকে পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর ভাস্কর মৃণাল হকের নেতৃত্বে ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে সরানো হয়। শুক্রবার ও শনিবার সেটি হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের ভেতরে পানির পাম্পের পাশে রাখা ছিল।

বিশ্বজুড়ে ন্যয়বিচারের প্রতীক হিসেবে গ্রিক দেবী থেমিস স্বীকৃত। সেখানে শাড়ি পরিয়ে নারীর হাতে এই ন্যয়বিচারের প্রতীক ধরিয়ে দিলে সেটি বাঙালি নারী হবে কিনা প্রশ্নে মৃণাল হক বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, এটা কোনও গ্রিক দেবীর মূর্তি নয়। বরং বাঙালি নারীর ভাস্কর্য। আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে করা। এটার প্রচলন আছে সবখানেই। ন্যায় বিচারকের ভূমিকায় বাঙালি নারীর অবয়ব দেখাতে চেয়েছি আমি। কেননা, বিশ্বজুড়ে বিচারালয়ে ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে যে লেডি জাস্টিজের ভাস্কর্য প্রচলিত, সেটি আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না।’

এই ব্যাখ্যা কতটা কার্যকর বা কেন এই ব্যাখ্যায় আসতে হলো প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন এসব আলাপ জটিলতা বাড়াবে।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশে বেশিরভাগ নারীরূপী ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে গাউন ও মেক্সি পরা দেখা যায়। আমাদের দেশে নারীদের পোশাক শাড়ি বলে সেটিই ব্যবহার করা হয়েছে।’

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি নমনীয় থাকলেও এখন তা হুমকিতে রূপ নিয়েছে। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে হেফাজত বলে, ৯৫ শতাংশ মুসলমানের দেশে মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তি/ভাস্কর্যের নগরীতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না। এই স্মারকলিপিকে মূল্যায়ণ করা না হলে, শাপলা চত্বরের মতো আরেকটি জনসমুদ্রের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।