তুরস্কের ইস্তাম্বুলের রেইনা নাইট ক্লাবে হামলা চালিয়ে ৩৯ জনকে হত্যার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হয়ে যুদ্ধ করেছেন।

মঙ্গলবার তুর্কি দৈনিক হুরিয়াতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নাইট ক্লাবে হামলার পর পালিয়ে যাওয়া বন্দুকধারীকে এখনও ধরা যায়নি। তবে তার রেখে যাওয়া কিছু চিহ্ন থেকে পুলিশ ধারণা করছে তিনি অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে বেশ দক্ষ ছিলেন।

গত রোববার ইস্তাম্বুলে বসফোরাস প্রণালীতে ভাসমান বিখ্যাত রেইনা নাইট ক্লাবে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের জন্য আয়োজিত পার্টিতে ওই বন্দুকধারী হামলা চালায়।

নতুন বছরের প্রথম প্রহরের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পার্টিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অটোমেটিক কালাশনিকভ রাইফেল (একে-৪৭) দিয়ে গুলি করতে করতে এগুতে থাকে হামলাকারী। তিনি এক নাগাড়ে ১২০টি বুলেট ছুঁড়েন। এরপর তিনি সেখান থেকে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যান।

হুরিয়াত সংশ্লিষ্ট কলামিস্ট আবদুল কাদির সেলভি বলেছেন, ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তারা হামলাকারীকে চিহ্নিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনি মধ্য এশীয়ার কোনো দেশ থেকে এসেছেন।

সেলভির ভাষ্য, হামলাকারী সিরিয়ার আবাসিক এলাকায় অলিগলিতে যুদ্ধ করার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ওই প্রশিক্ষণের কলাকৌশল ব্যবহার করেই তিনি স্নাইপার রাইফেল দিয়ে দূর থেকে গুলি চালানোর পরিবর্তে রেইনা নাইট ক্লাবে কাছ থেকে গুলি চালিয়েছেন।

সোমবার তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী নুমান কুর্তুলমুস বলেছেন, কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে হামলাকারীর আঙুলের ছাপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এতে আশা করা হচ্ছে তাকে দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করা যাবে।

এদিকে দৈনিক হ্যাবার তুর্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী দক্ষীণাঞ্চলীয় কোনিয়া শহর থেকে ইস্তাম্বুল শহরে এসেছিলেন। তাকে যেন কেউ সন্দেহ না করে সেজন্য তিনি সঙ্গে করে একজন নারী ও দুজন শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন।