এবার র‌্যাবের কেনা সরঞ্জাম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আটকে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। জানা যায়, মোবাইল ফোনে আড়ি পাতা এবং নজরদারি করার জন্য এসব সরঞ্জমা কেনা হয়েছিলো।

images

এ বিষয়ে র‌্যাব ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠিও দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া শেষে জাহাজীকরণের আগ মুহূর্তে চালানটি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।দরপত্র অনুসারে, নজরদারির জন্য যে প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম যা কিনছে সেটা ‘ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেনটিটি (আইএমএসআই) ক্যাচার নামে পরিচিত। এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী গুপ্তচর সরঞ্জাম। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে আড়ি পাতা হয়। এই প্রযুক্তি সহজে বহনযোগ্য এবং গাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, র‌্যাবের ব্যবহার করা গোয়েন্দা সরঞ্জাম ইউএইচএফ ট্রান্সমিটার অ্যান্ড সার্ভেইলেন্স ইকুইপমেন্টটি ব্যবহারের অনুপযোগী। ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর এটি অকেজো ঘোষণা করা হয়। সরকারি অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন আরেকটি যন্ত্র ক্রয়-প্রক্রিয়া শুরু হয়। একইভাবে এটি ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রাক্জাহাজীকরণের বিষয়টিও অনুমোদন করা হয়। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া মেনে কেনাকাটা সম্পন্ন করার একপর্যায়ে র‌্যাব মানবাধিকার লংঘন করছে বলে একটি মানবাধিকার সংস্থা সংবাদ প্রচার করে। সেই সংবাদের ওপর ভিত্তি করে উৎপাদনকারী দেশ সুইজারল্যান্ড জাহাজীকরণ প্রক্রিয়া আটকে দেয়। এসব সরঞ্জাম না থাকায় গোয়েন্দা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করে।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে এমএম ট্রেডার্সের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘র‌্যাবের বিরুদ্ধে নৃশংসতা আর নির্যাতন চালানোর রেকর্ড আছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী ২০০৪ সালে র্যা ব গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের হাতে সাত শতাধিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। যদি এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সঠিক হয়, তা হলে সরঞ্জামগুলোর রপ্তানি থামানো বাঞ্ছনীয়।’ তারা সরঞ্জাম রপ্তানির মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশ না হওয়ার জন্য সুইজারল্যান্ড সরকারের প্রতি আবেদন জানান। এরপরই সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব শুরু হয়।