রাজধানীবাসীর সব সমস্যা সমাধান করার জন্য একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠন করে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব নিয়ে সাক্ষাৎ করতে যাবেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত ২ মেয়র আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তারা বলেন, আগামী ৩ বছর পর ঢাকা হবে ক্লিন ও গ্রীণ শহর। আজ সোমাবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিইবি ভবনে ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারা এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। এতে বক্তব্য রাখেন, এফবিসিসিআই সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সেলিমা আহমদ।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন,আগামী ২ বছরের মধ্যে ঢাকাকে গ্রীণ সিটিতে রূপান্তর করা হবে। এ শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দক্ষিণের কাছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন ২০০ কোটি টাকা পাবে। তবে তা এখনই দিতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ২ ভাই মিলে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা আপনাদের হতাশ করবো না।
নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য সমগ্র ঢাকায় সিসি ক্যমেরার ব্যবস্থা করা এবং বর্জ্য সমস্যার সমাধান করার জন্য পদক্ষেপ নিবেন বলে প্রতিশ্র“তি দিয়ে আনিসুল হক বলেন, ২ বছর পর বর্জ্য নিয়ে আপনারা কোনো সমস্যা দেখবেন না। ৩ বছর পর ঢাকা হবে ক্লিন ও গ্রীণ শহর। তিনি আরও বলেন, আমরা ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে চাই এটা যেমন সত্য, তেমনি সত্য, যে মানুষটি ফুটপাতে কাজ করে এটি তার জীবনের রোজগার। তাই আগে তার জন্য একটি ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি এটাও সম্ভব হবে। তবে এ জন্য সকল মহলের সহযোগিতা দরকার হবে।
যানজট সমস্যার বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, যানজট একটি অবকাঠামোগত সমস্যা। তাছাড়া আমরা এক্সপার্ট না। এ সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারের সাথে বসে আলোচনা করে সমাধান করবো। পাঁচ বছরের জন্য উত্তর ও দক্ষিণের জন্য আমরা আমাদের সকল পরিশ্রম ও সততা নিয়োগ করবো।
দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকাকে মানুষের বাসযোগ্য করার জন্য ও সব সমস্যা সমাধানে আমরা সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাবো। তিনি বলেন, ৫৬ টি অধিদপ্তর ও ২০টি মন্ত্রণালয় নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজ করতে হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের জন্য মেয়রকে প্রধান করে একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। আমরা দুই মেয়র একত্রে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমন্বিত কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব নিয়ে গেলে আশা করি প্রধানমন্ত্রী তা বিবেচনা করবেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণের ১ লাখ ৪৩ হাজার বাড়ির হোল্ডিং-এর নামে ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য সকলকে ফ্রি ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। আগামী শবে বরাতের রাত থেকে দক্ষিণের সব ল্যাম্পপোস্টগুলোর মধ্যে আলো জ্বালাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
সকলের জন্য হেল্প ডেক্স চালু করার উদ্যোগ নেবেন জানিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, আপনারা যখন যে সমস্যার কথা বলবেন, আমরা তার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো। অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনে নতুনত্ব আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অনেক জমি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী রয়েছেন। আপনারা দক্ষিণে বিনিয়োগ করেন। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি অন্যস্থানে বিনিয়োগ করে আপনার যতটুকু রিটার্ন পাবেন দক্ষিণে বিনিয়োগ করে তার থেকে বেশি রিটার্ন পাবেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনারা নির্বাচনের আগে জনসাধারণকে যে সব কথা দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করলে ঢাকাবাসীর কোনো কিছুই অপূর্ণ থাকবে না। সংগঠনের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঢাকা শহরের কোনো বাজারে শাক-সবজি পরিষ্কার করার জন্য একটিও পানির কল নেই। ব্যবসায়ীরা নর্দমার পানিরতে শাক-সবজি পরিষ্কার করেন। এ অবস্থা বন্ধ করতে আপনারা (দুই মেয়র) প্রতিটি বাজরে একটি করে পরিষ্কার পানির কলের ব্যবস্থা করে দেন। একই অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী সেলিমা আহমদ বলেন, চাঁদাবাজির হাত থেকে ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে হবে। একই সাথে ট্রেড লাইসেন্স ফি কমিয়ে ৫০০ করারও দাবি করেন তিনি।