বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়ালের পক্ষে প্রচারণা চালাতে তিনি সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাওরান বাজারে আসলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, সরকার সমর্থকরা ইট-লাঠি-সোঠা ও রড নিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই ঘটনার পর বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর বেইলী রোডের উদ্দেশে কারওয়ান বাজার ত্যাগ করে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলায় ইটের আঘাতে ফারুক ও ফজলুল করিমসহ ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এ সময় দায়িত্বরত সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। হামলায় অন্তত চারজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের (সিএসএফ) ব্যবহৃত তিনটি গাড়ির সামনের গ¬াস ভেঙে যায়। এছাড়াও আরো ৬-৭ টি গাড়ী ভাঙচুর করা হয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে এক সিএসএফ সদস্যের নাক ফেটে যায়। তার রক্তে রঞ্জিত হয় খালেদা জিয়ার গাড়ি। এছাড়া হামলায় গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা বিএনপির ছয় নেতাকর্মীও আহত হন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো প্রচারণায় নামেন খালেদা জিয়া। কাওরান বাজারে বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এ সময় সেখানকার ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোট চান।

কারওয়ান বাজারে হামলার পর বেগম জিয়া তার দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারণা অব্যাহত থাকবে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।

এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, ‘চোরদের ভোট দেবেন না। সারা দেশে তারা শুধু চুরি আর চুরি করছে। আপনারা তাবিথ আউয়ালকে ভোট দেবেন।’ বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই একদল যুবক খালেদা জিয়ার গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে থাকা নিরাপত্তা টিম এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ সদস্যদের এ সময় নিরব থাকতে দেখা যায়।

এর আগে বাসা থেকে বের হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর গুলশান-২, বনানী, মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে বিজয় স্মরণীর মোড়ে উপস্থিত হয় বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে। এরপর গাড়িবহরটি ফার্মগেটের উদ্দেশে রওনা দেয়। সাড়ে পাঁচটার একটু আগে বহরটি কারওয়ান বাজারে উপস্থিত হয়। এরপর খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে গণসংযোগ শুরু করেন।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারে নেমে হামলার মুখে পড়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। তাঁর গাড়িতে ঢিল ছোড়া হয়েছে। এলোপাথারি ভাংচুর করা হয়েছে তাঁর নিরাপত্তকর্মীদের (সিএসএফ) তিন-চারটি গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি। এতে খালেদার একজন নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খালেদা জিয়ার গাড়ির সামনের অংশে রক্তের দাগও দেখা গেছে। সোমবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর কাওরানবাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা করেছে সরকার সমর্থকরা। এসময় গাড়ি বহরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বক্তব্যরত খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করে ময়লা ও ইটের টুকরাও ছুড়ে মারেন তারা। গাড়ি বহরটি বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে কাওরানবাজারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এর সামনে পৌঁছলে সেখানে গাড়িতে থাকা খালেদা জিয়া ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছিলেন। এসময় শ্রমিক লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের একদল কর্মী লাঠিসোটা হাতে বহরের উপর হামলা চালায়। এতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সমর্থক আহত হন। এরপরে গাড়ি বহরটি মগবাজারের দিকে চলে যায়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে উপস্থিত বেশ কয়েক জন জানান, বাসা থেকে বের হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর গুলশান-২, বনানী, মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে বিজয় স্মরণীর মোড়ে উপস্থিত হয় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে। এরপর গাড়িবহরটি ফার্মগেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। সাড়ে ৫টার একটু আগে বহরটি কারওয়ান বাজারে উপ¯ি’ত হয়। এরপর খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে গণসংযোগ শুরু করেন

গত রোববার তাবিথ আউয়ালের পক্ষে গণসংযোগ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর গাড়ি বহরটি উত্তরার জসীম উদ্দীন এলাকায় গেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কালো পতাকা নিয়ে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ করেন।

খালেদা জিয়া আসছেন এ খবর পেয়ে উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম তোফাজ্জল ও সাধারণ সম্পাদক হাবীব হাসানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এসে দাঁড়ান। তাঁরা বিক্ষোভ করেন। বিএনপির কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হাত ও মাথায় ছিল কালো কাপড়। তাঁরা খালেদা জিয়ার গাড়ি ঘিরে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁরা ‘আমার ভাই মরল কেন, খুনি খালেদা জবাব চাই’, এ ধরনের স্লোগান দেন। খালেদা জিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে খালেদা জিয়া আমির প্লাজায় গেলে এর একটু সামনে কসমস শপিং কমপ্লেক্সের সামনে কালো পতাকা নিয়ে আবারও মিছিল বের করেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। বিএনপির নেতা-কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দেন।

প্রচারের সময় খালেদা জিয়ার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েক’শ নেতা-কর্মী ভিড় জমান। তবে তাবিথ আউয়াল এ সময় উপস্থিত ছিলেন না। এখান থেকে খালেদা জিয়া যান হাউস বিল্ডিং এলাকায়। এখানেও রাস্তায় কালো পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী।

বিএনপির নেতা কর্মীদের অভিযোগ সরকারি মদদে খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে বার বার হামলা চালানো হচ্ছে। তারা (সরকার) বুঝতে পেরেছে তিন সিটি নির্বাচনেই তাদের ভরা ঢুবি হবে। সরকারি দলের লোকজন নিএনপির জনশ্রুতি দেখে পাগল হয়েগেছে। তবে বিএনপি চেয়ারপাসনরে উপর হামলার দায়দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে। জনগণ এর জবাব ২৮ এপ্রিল ভোটের মাধ্যমে দিবে।

এদিকে খালেদার গাড়ি বহরের ওপর হামলা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এ ঘটনার তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।