চলমান হরতাল-অবরোধে শুধু অর্থ সঙ্কটের কারণেই থমকে আছে দুই সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মকাণ্ড। থমকে গেছে নাগরিক সেবাও। এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভাবে নিয়মিত অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। দেয়া যাচ্ছে না ঠিকাদারদের বকেয়া বিল। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান দু’টিকে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বকেয়া কর আদায়ে জোর দেয়া ছাড়া কোনো উপায়ই দেখছে না কর্তৃপক্ষ।

download (1)

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হরতাল-অবরোধের কারণে আমাদেরকে বেশকিছু সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। গত দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অবরোধের পাশাপাশি হরতাল পালন করে আসছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এর ফলে পুরো নগরী জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন অজুহাতে অনেকেই করপোরেশনকে ট্যাক্স দেয়া থেকে বিরত থাকছেন। কর্মকর্তারাও নিয়মিত কর আদায়ের কাজ করতে পারছেন না। এ কারণে কমে গেছে প্রতিষ্ঠানের আয়ও।

ডিএসসিসির প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবত ১১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। আগামী জুন থেকে নতুন পে-স্কেল চালু হলে প্রতিমাসে আরো সাড়ে ৭ কোটি ঢাকা বাড়তি প্রয়োজন হবে। এখন সাড়ে ১১ কোটি টাকার বেতন দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে ডিএসসিসিকে। সামনে বাড়তি টাকা কোন খাত থেকে আসবে তা নিয়ে বিপাকে রয়েছি আমরা।’

এছাড়াও এখন পর্যন্ত শুধু ঠিকাদারদের পাস হওয়া বিল বাকি রয়েছে প্রায় সোয় ২০০ কোটি টাকা। যা এখনো পরিশোধকরা যায়নি। এভাবে চলতে থাকলে এ সঙ্কট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন মাহমুদ হোসেন।

ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানে উৎসাহিত করার জন্য আমরা ট্যাক্সের শতভাগ সারচার্জ ১০ মার্চ পর্যন্ত মওকুফ করেছি। এখনো অনেক টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এ সমস্যা আরো বাড়ছে।’

কর আদায়ের হার বাড়ানোর জন্য ডিএসসিসি নানা কৌশল অবলম্বন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থ বছরে আমাদের ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭৫ কোটি টাকা। কিন্তু তা এখনো আদায় হয়নি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলমান আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন ছোট-বড়-মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানে এখন অনেকটা অচলাবস্থা বিরাজ করছে। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানেও পড়েছে ভাটা। যে কারণে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন না নিয়মিত বেতন। হরতাল-অবরোধের কারণে পেশাজীবীরাও রয়েছেন ভয়াবহ অর্থ সঙ্কটে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দু’মাসে পুলিশের অভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। নামমাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে একটি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। একইসঙ্গে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। এ নিয়ে নগরবাসীর অভিযোগেরও শেষ নেই।