অবশেষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা কারাগার থেকে মুক্ত হলেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন খালেদা জিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে মহাসচিব ও যুগ্ম-মহাসচিবের পদও চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তিনি। ফখরুল ও রিজভী মুক্ত হলেই অন্য পদগুলোও চূড়ান্ত করার কথা ভাবছেন খালেদা জিয়া।’

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমা বলেন, ‘দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন তা মূলত জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসবে। তবে আমার মনে হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই মহাসচিব হচ্ছেন। কারণ তিনি দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন এবং করেও যাচ্ছেন। কিন্তু নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না যে, তিনিই মহাসচিব হচ্ছেন। আবার হওয়ার সম্ভনাটাই বেশি।’

একই বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান বলেন, ‘মহাসচিব কে হবেন এ সিদ্ধান্ত একমাত্র বেগম খালেদা জিয়াই নেবেন। তবে আমার কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ফখরুল ইসলাম আলমগীরই। কারণ তিনি দলের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং বর্তমানেও করছেন। এছাড়া মহাসচিবের চেয়ারে বাসার মতো আর কোনো যোগ্য নেতা বর্তমানে দলে নেই।’

তিনি বলেন, ‘অন্যভাবে বলা যায়, বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পছন্দ করেন। তাই মহাসচিব হওয়ার সম্ভবনা মির্জা ফখরুলেরই বেশি রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে ১৬ মার্চ মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দল চালাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেশ কয়েকবার তাকে ভারমুক্ত করার গুঞ্জন উঠলেও তা সত্যি হয়নি। তবে বর্তমানে তিনি পরীক্ষিত হওয়ায় দলের হাইকমান্ড তাকে ভারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন