ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকা অসহায় বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাসীদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। বুধবার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয় বলে জানিয়েছে দা গার্ডিয়ান পত্রিকা।

দেশ দুটিতে যেসব হাজার হাজর অভিবাসীকে আশ্রয় দেয়া হবে তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা। উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে এখন সাগরে ভাসছে এসব অসহায় মানুষ। এর আগে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ড এসব সাগরভাসিদের আশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছিল। সাগরে কাঠের নৌকায় করে ভাসতে থাকা এসব লোকজন পানিতে পড়ে মারা গেলেও তাদের উদ্ধার না করার জন্য স্থানীয় জেলেদের নির্দেশ দিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রোহিঙ্গার অভিবাসী প্রত্যাশীদের দায় নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল মিয়ানমার। কুয়ালামপুর বৈঠকও বর্জন করেছিল ওই দেশটি। পরে এসব ঘোষণার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে এশিয়ার এই দেশগুলো। ফিলিপাইন সরকার অবশ্য সাগরে ভেসে থাকা মানুষদের আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে।

বুধবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় বৈঠক শেষে মালেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফা আমান অভিবাসী প্রত্যাশীদের আশ্রয় দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন,‘ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া ৭ হাজার অভিবাসী প্রত্যাসীকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় আগামী এক বছরের মধ্যে এসব আশ্রয় পাওয়াদের পুনর্বাসন এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হবে।’

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা অভিবাসী প্রত্যাশীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্যে মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। ওই বিবৃতিতে তিনি আরো বলেছেন,‘যদিও এসব অভিবাসনে উচ্ছুক এই সম্প্রদায়টি অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘণ করছে, তারপরও তাদের ভালোভাবে জীবনধারণের প্রচেষ্টাকে অগ্রাহ্য করা উচিত নয়।’

এদিকে আঞ্চলিক অভিবাসী সংকট সমাধানে প্রথমবারের মতো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। এতদিন তারা এই সংকটের দায় অস্বীকার করে আসছিল।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে  জানায়, আঞ্চলিক অভিবাসী সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের সঙ্গে একমত ইয়াঙ্গুন। সমুদ্রে বাড়াই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, তাদের মানবিক সহায়তা দিতে  মিয়ানমার প্রস্তুত। আঞ্চলিক অভিবাসী সংকটের দায় প্রশ্নে মিয়ানমার যে কিছুটা নমনীয় হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতিটি সেটাই ইঙ্গিত করছে।

এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, পোপ ফ্রান্সিস এবং ওয়াশিংটন রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অভিবাসী প্রত্যাসীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এদিকে গত দশ দিনে সাগর থেকে প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশিকে  উদ্ধার করেছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ড। বুধবার মালয়েশিয়া বৈঠকের আগে প্রায় ৪শ অভিবাসী প্রত্যাসীকে উদ্ধার করেছে ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা। এই উদ্ধারের পরই মালয়েশিয়া বৈঠক থেকে এ ঘোষণা এল। মঙ্গলবার জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বার্মা-বাংলাদেশ উপকূলের কাছে সাগরে ভাসছে ২ হাজারের বেশি অভিবাসী প্রত্যাসী।