যুক্ত হলো মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের দুনিয়ায় আরও একটি নাম ইয়াহু টুগেদার
যুক্ত হলো মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের দুনিয়ায় আরও একটি নাম ইয়াহু টুগেদার

মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের দুনিয়ায় আরও একটি নাম যুক্ত হলো। ইন্টারনেট কোম্পানি ইয়াহু ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ইয়াহু টুগেদার চালু করেছে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মে অ্যাপটি পাওয়া যাবে। এর আগে স্কুইরেল কোডনাম দিয়ে অ্যাপটি নিয়ে পরীক্ষা করছিল ইয়াহু। বাজারের অন্যান্য চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশনের মতোই এতে চ্যাট, ইমেজ শেয়ারিং, জিআইএফ, লিংক ও রিঅ্যাকশন সুবিধা পাওয়া যাবে।

ইয়াহু বর্তমানে ভেরজিনের ওথ বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ওথের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও যোগাযোগ পণ্য বিভাগের প্রধান মাইকেল অ্যালবার্স বলেছেন, ‘অনেক অ্যাপে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সঙ্গে ও একটি বিষয়ে আলাপের সুযোগ থাকে। ইয়াহু টুগেদারে অন্য সুবিধাগুলো হচ্ছে এতে বড় গ্রুপ করে তা পরিচালনা করা যাবে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকবে।’

অ্যাপটিতে ঢুকতে ইয়াহু অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। যাদের অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের অন্যদের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেতে হবে। এতে একটি কোড পাবেন ব্যবহারকারী এবং সেটি ব্যবহার করে অ্যাপে সাইনইন করা যাবে।

ইয়াহু টুগেদার অ্যাপে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফিচার রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে স্মার্ট রিমাইন্ডারস। এতে চ্যাটের কোনো বিষয়ে রিমাইন্ডার সেট করে দিতে পারবেন ব্যবহারকারী। ব্যক্তিগত চ্যাটে গোপন বিষয় ঠিক করার সুবিধাও থাকবে এতে।

এর আগে অ্যাপটির পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালু করার সময় ইয়াহু জানিয়েছিল, অ্যাপটিতে মূলত গ্রুপ চ্যাটকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রুপ চ্যাট ব্যবস্থাপনার নানা ফিচার আছে এতে। এতে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ থাকবে। অন্যান্য অ্যাপের মতো ছবি, ডকুমেন্ট, লিংক শেয়ার করা যাবে এতে।

গুগল প্লেতে যুক্ত করা বর্ণনা অনুযায়ী, স্কুইরেল অ্যাপটি ‘ডিসকর্ড’ ও ‘স্ল্যাক’ অ্যাপের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্যই তৈরি করেছে ইয়াহু। এর বিশেষত্ব হচ্ছে প্রচলিত হোয়াটসঅ্যাপ বা উইচ্যাটের ফিচারগুলোর জায়গায় নির্দিষ্ট বিষয় ও মানুষ নিয়ে চ্যাট ‘রুম’ তৈরি করা যাবে। একটি মূল ‘রুম’ ফিচার থাকবে, যেখানে পুরো গ্রুপকে একসঙ্গে করার ও কোনো ঘোষণা দেওয়া যাবে। নোটিফিকেশন বন্ধ করার জন্য মিউট সুইচ থাকবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবহারের জন্য এ অ্যাপ তৈরি করেছে ইয়াহু। এতে ব্যক্তিগত গোপন চ্যাটের জন্য ‘সিক্রেট রুম’ থাকবে।

ইয়াহু বর্তমানে ভেরিজনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ওথের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। গত বছরে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারে ইয়াহুকে কিনে নেয় ভেরিজন। ইয়াহু বিক্রি হওয়ার পর এটাই তাদের সাম্প্রতিক পণ্য।

এ বছরের ১৭ জুলাই দুই দশক ধরে চলা মেসেঞ্জার বন্ধ করে দেয় ইয়াহু। ১৯৯৮ সালের ৯ মার্চ এটি ইয়াহু পেজার নামে চালু হয়। পরে ১৯৯৯ সালে এর নামকরণ করা হয় ইয়াহু মেসেঞ্জার। ২০০৯ সালে ১২ কোটি ২৬ লাখ ব্যবহারকারী ছিল মেসেঞ্জারের।