মানচিত্র আংশিক সংশোধন করল মিয়ানমার
মানচিত্র আংশিক সংশোধন করল মিয়ানমার

সেন্ট মার্টিনকে মিয়ানমার নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানোর চেষ্টার পর বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদের মুখে দেশটি রাতারাতি তাদের নতুন মানচিত্রের আংশিক সংশোধন করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

সেন্ট মার্টিনকে রাখাইন রাজ্যের অংশ দাবি করে সেখানকার জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য মানচিত্রে সংযোজন করেছিল মিয়ানমার। মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়সহ দেশটির অন্তত তিনটি ওয়েবসাইটে এই মানচিত্র দেখানো হয়। সংশোধিত মানচিত্রে সেন্ট মার্টিনের রঙ অপরিবর্তিত রাখা হলেও জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপকে মিয়ানমারের মানচিত্রে দেখানোর ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রদূত ইউ লুইন ও’কে গত শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলমের দপ্তরে তলব করে মিথ্যাচারের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। সেই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রতিবাদ পত্রও ধরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। একপর্যায়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত স্বীকার করেন, সেন্ট মার্টিনকে মিয়ানমারের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো ভুল হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিবাদের পর মানচিত্র সংশোধনের বিষয়টি সম্পর্কে খুরশেদ আলম বলেন, মিয়ানমার মানচিত্রের রং অপরিবর্তিত রেখেছে। কিন্তু সেন্ট মার্টিনের জনসংখ্যাসংক্রান্ত তথ্য মুছে দিয়েছে। গত শনিবার পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সেন্ট মার্টিনের জনসংখ্যাও দেখানো হচ্ছিল।

খুরশেদ আলম জানান, কম্পিউটার বাটনে চাপ দিয়ে আগে যে কেউ রাখাইন রাজ্যের পাশাপাশি সেন্ট মার্টিনের জনসংখ্যা দেখতে পেতেন। তবে পার্শ্ববর্তী টেকনাফ এলাকার জনসংখ্যা তাতে যুক্ত ছিল না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির কাছে এ ব্যাপারে সবশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন খুরশেদ আলম। ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম ও কমিটির সদস্য এম ফারুক খান, সেলিম উদ্দিন ও বেগম মেহজাবিন খালেদ।

সংসদীয় কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি নিয়ে তৎপর থাকতে বলেছে। পাশাপাশি মিয়ানমার এই বানোয়াট মানচিত্র আর কোথাও আপলোড করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেছে কমিটি।