মহাত্মা গান্ধীকে বর্ণবিদ্বেষীর অপবাদ

0
249

মৃত্যুর ৬৭ বছর পরেও হিংসার শিকার হলেন মহাত্মা গান্ধী৷ যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তিনি বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলে , সেখানেই তাঁকে ‘বর্ণবিদ্বেষী’ বলে অপবাদ দিয়ে, তাঁর মূর্তিতে রং লাগিয়ে দিলেন কয়েক জন যুবক৷ বালতি করে রং তাঁরা ছুড়ে দেন ওই মূর্তির দিকে৷ ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়েছে বামিয়ান থেকে মসুল, নিমরুদ, হাতরা৷ অজ্ঞতার শিকার হয়েছে পিরামিডের দেওয়াল৷ ক্ষমতা হারানোর পরে নির্মম ভাবে ভাঙা হয়েছে ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের প্রতিকৃতি৷ কিন্তু অহিংস আন্দোলনের প্রতীক মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে আক্রমণের ঘটনা ঘটল তাঁরই প্রথম কর্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকায়৷

আমাদের ধর্মতলার মতো জোহানেসবার্গে যে জায়গাটিতে থেকে গাড়ি ছাড়ে, সেই জায়গাটির নাম রাখা হয়েছে গান্ধী স্কোয়ার, সেখানে দাঁড়ানো তরুণ আইনজীবী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর মূর্তির উপরেই এই হামলা৷

একটি গাড়ি করে কয়েকজন লোক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়, তারপরে যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধীর জীবনের ঘটনা লেখা ছিল, সেই জায়গায় রং ছেটাতে শুরু করে৷

অন্যরা পালিয়ে যেতে চাইলেও একজন যাচ্ছিলেন না৷ টানাটানি করা শুরু করলে ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে, পরে রাজনৈতিক দলের কর্তাব্যক্তিরাই ছাড়িয়ে নেবেন৷

সংবাদমাধ্যমকে এই ঘটনার কথা জানান সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মী এনতান্ডো খ্বোয়েপে৷ তিনি বলেন, ‘ওঁদের হাতে প্লাকার্ডে লেখা ছিল বর্ণবিদ্বেষী গান্ধীর মূর্তি ভেঙে দাও৷ ওদের পোশাক দেখে আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থক বলে মনে হয়৷’

পুলিশের মুখপাত্র কে মাখুবেলা বলেন, মোলেসে মাইলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পতি নষ্ট করার অভিযোগ দায়ের করা হবে৷ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়েছে৷ আগামী ৮ মে আদালতে হাজির হয়ে ২১ বছর বয়সী মাইলেকে জানাতে হবে কেন তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন৷ ১৮৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেছিলেন গান্ধী৷

জোহানেসবার্গে তিনি ছিলেন ১৯০৩ থেকে ১৯১৪ পর্যন্ত৷ দক্ষিণ আফ্রিকাতেই তিনি শুরু করেছিলেন সত্যাগ্রহ৷ ১৯৯৪ সালে সে দেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পরে দেশজুড়ে গান্ধীর বহু মূর্তি স্থাপন করা হয়৷

দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ে গান্ধীর মূর্তি উদ্বোধন করেন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল৷

সেই গান্ধীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ? বিভিন্ন টুইটে যে বক্তব্য উঠে এসেছে তার মূল বক্তব্য হল, ঔপনিবেশিক সরকারের আমলে কালো ও বাদামী লোকেদের একই দরজা দিয়ে ঢুকতে হত ডারবান ডাকঘরে৷

কিন্তু বাদামী লোকেরা ‘উন্নত’ বলে তাদের জন্যও একটি পৃথক প্রবেশপথের ব্যবস্থা করে তৎকালীন সরকার৷ তাই তাদের ‘রাগ’ গান্ধীর উপরে৷