ক্ষমতায় গেলে এক সপ্তাহে গণমাধ্যম আইন বাতিল করা হবে: মওদুদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে এক সপ্তাহের মধ্যেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রচার নীতিমালা আইন বাতিল করা হবে।
মওদুদ বলেন, দুই আইনের কারণে সংবাদপত্র আর স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে না। কারণ হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, এখন মুখও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সংবিধানে যে বাকস্বাধীনতা দেওয়া আছে সেই সাংবিধানিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশকে সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাহারের দাবিতে এই মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মওদুদ আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। জাতীয় ঐক্য দেশের সাধারণ মানুষের মনের কথা বলেছে। মানুষ এ ঐক্যকে সাদরে গ্রহণ করেছে। সারা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ কারণে সরকারের মন্ত্রীদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। ঐক্য নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। এতে বোঝা যায় ঐক্য ঠিক আছে। ঐক্যের মাধ্যমেই বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা হবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা জনসভা করার অনুমতি পাইনা। অথচ অনেককে সভা করার সুযোগ দেয়া হয়। ২৩ তারিখ সিলেটে সভা করতে চাইলে প্রথমে অনুমতি দিলেও পরে তা বাতিল করে দেয়। এর ফলে বুঝা যায় সরকার আমাদের ভয় পায়। সরকার জনগণকে ভয় পায়। বাংলার মানুষ এ সরকারকে দেখতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনাটি ছিল একটি মর্মান্তিক ঘটনা। সেটা ছিল একটি জাতীয় ট্রাজেডি। কিন্ত এ মামলায় তারেক রহমানকে যুক্ত করে তার বিরুদ্ধে রায় দেওয়ায় এটি অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ২১ আগস্ট ঘটনার সঙ্গে তারেক রহমান কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি আওয়ামী লীগের কেউও তার নাম বলেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তদন্তেও তার নাম আসেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মুফতি হান্নানকে দিয়ে জোর করে স্বীকারুক্তিমূলক আদায় করেছে। যা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত। আমরা আশা করি তারেক রহমান দেশে ফিরে আপিল করবেন। আপিলে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মহিলা দলের নুরজাহান ইয়াসমীন, জেবা খান, রাজিয়া আলীম, পেয়ারা মোস্তফা, শামসুন্নাহার, আমেনা খাতুন বক্তব্য রাখেন।