শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। বাস মালিকরা বলছেন, সড়কে ভাঙচুরের কারণে পরিবহণ শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না। অন্যদিকে পরিবহণ শ্রমিকরা বলছেন, মালিকরা বাস নামাতে নিষেধ করেছেন।

আজ শুক্রবার সড়কে পরিবহণ মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনগুলোর কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধের কারণে সারা দেশে জনদুর্ভোগ চলছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়ত উল্লাহ শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ছাত্ররা বাস ভাঙচুর করছে এজন্য বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাস চলাচল বন্ধের কোনো নির্দেশনা মালিকরা দিয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওইভাবে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ভাঙচুর করছে, তাই বাস বন্ধ রয়েছে।

কবে নাগাদ বাস চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে- জানতে চাইলে সঠিক দিনক্ষণ না জানিয়ে এনায়েত বলেন, ছাত্ররা ভাঙচুর বন্ধ করুক, বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, আন্দোলন চলাকালে সড়কে ৩২৫টি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে, ১১টি বাস পোড়ানো হয়েছে। আমরা এই পরিস্থিতিতে সড়কে বাস নামাতে নিরাপদ বোধ করছি না। এভাবে বাস ভাঙচুর করলে, পুড়িয়ে দিলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হই।

এদিকে আজ সকাল ৯ থেকে রাজধানীর আভ্যন্তরীণ সকল পরিবহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে সকল প্রকার যানবাহনের পাশাপাশি রিকশা চলাচলেও বাধা দিচ্ছে তারা। এতে সাধারণ মানুষরা সায়েদাবাদ এলাকায় শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে রিকশা থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন অনেকে। এদিকে সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একদল পরিবহণ শ্রমিককে সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি আটকাতে দেখা গেছে।

মিরপুর-১১-তেও সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি চলতে বাধা দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার মালিক সমিতি ধর্মঘট ডেকেছে। কোনো গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ঢাকায় বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর হয়। পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে তাদের ঘরে ফেরার প্রত্যাশা প্রকাশের পরদিন শুক্রবার সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন মালিক-শ্রমিকরা।