কৃষকেরা ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ পাবেন

0
466
কৃষকেরা ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ পাবেন
কৃষকেরা ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ পাবেন

চলতি অর্থবছরে কৃষকদের জন্য ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ রেখেছে ব্যাংকগুলো। কৃষক ছাড়াও পোলট্রি শিল্প, দুগ্ধ উৎপাদন, কৃত্রিম প্রজনন ও কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে এসব ঋণ মিলবে। যদিও গত অর্থবছরে এ খাতে ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আলুচাষিদের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ফসল সংগ্রহের তিন মাস পর থেকে করা হয় নতুন এই নীতিমালায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বৃহস্পতিবার এই নীতিমালা ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান। এর আগের অর্থবছরগুলোতে কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। অনুষ্ঠানে অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর এবং ব্যাংকগুলোর এমডিরা উপস্থিত থাকতেন। গতকাল নীতিমালা ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের জবাব না দিয়েই সম্মেলনকক্ষ ত্যাগ করেন ডেপুটি গভর্নর। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাহী পরিচালক অশোক কুমার দেসহ অন্যরা বাকি প্রশ্নের জবাব দেবেন। তিনিও সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই অন্য সভার কথা বলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। যদিও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সাংবাদিকদের দুই দিন আগেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষি এ দেশের অর্থনীতির প্রাণ, সভ্যতার আধুনিকায়নে মূল চালিকাশক্তি। জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৫ শতাংশ। গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৯ লাখ ৭৪ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সুদের হার ৯ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে কাসাভা, ব্রোকলি ও স্কোয়াস চাষে ঋণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলো বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করছে, এতে সুদের হার ২৭ শতাংশ পর্যন্ত নিচ্ছে। ৪০ শতাংশ
ঋণই যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এটা খুব বেশি না। তাদের তো ন্যূনতম পরিচালন খরচ ১৭-১৮ শতাংশ। এরপরও আমরা সুদ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।’

পরে একই প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার দে বলেন, ‘বেসরকারি সংস্থাগুলোর সুদের হার কমাতে কাজ শুরু করেছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি। আমরাও ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব শাখার মাধ্যমে বিতরণ বাড়াতে বলেছি।’

এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, নতুন করে কোনো কৃষক ঋণ পাচ্ছেন না বলে শোনা যাচ্ছে, আগে যাঁরা ঋণ পেয়েছেন, ঋণ শোধ করতে তাঁদেরই অর্থায়ন করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে কী পরিমাণ নতুন কৃষক ঋণ পেয়েছেন? ডেপুটি গভর্নরের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হলে এর জবাব বিভাগের কর্মকর্তারা দেবেন বলে জানান। পরে এই প্রশ্নের জবাবে অশোক কুমার দে বলেন, আগে নথিপত্র তৈরি করে (পেপার ট্রানজেকশন) ঋণ দেওয়া হতো। এখন এই প্রবণতা অনেক কমে গেছে। প্রকৃত ঋণ বিতরণ বেড়েছে। তবে নতুন কৃষক ঋণ পেয়েছেন কি না, সেই তথ্য নেই।

অশোক কুমার দে বলেন, ব্যাংকের ম্যানেজারেরা বাণিজ্যিক ঋণে হাদিয়া পান (কমিশন বা ঘুষ)। কিন্তু কৃষি ঋণে সেই সুযোগ কম। এ কারণে তাঁরা কৃষি ঋণ বিতরণে অনাগ্রহী। এনজিওগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করলে কৃষকেরা কম হয়রানির শিকার হন।

এমন অব্যবস্থাপনায় গতকালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।