গতকাল সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মীমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম, মা রোকসানা বেগমসহ পরিবারের সবাই। তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অপরাধীদের শাস্তি কামনা করেন। পরিবারের সদস্যরা বলেন, মীমকে তো আর পাওয়া যাবে না। যদি অপরাধীদের শাস্তি হয়, তাহলে অন্তত সান্ত্বনাটা পাওয়া যাবে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। এ ছাড়া গতকাল সকালে মীমের বাসায় তার সহপাঠীরাও গিয়েছিল। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে ঘটনাস্থলে বিমানবন্দর সড়কে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও অর্ধেক ভাড়ায় বাসে যাতায়াতের অনুরোধ জানায়।
মীমদের বাসা থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়িটির চালক অদক্ষ ছিল কিংবা গাড়িটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল বলে শোনা যাচ্ছে। এটা কেন, কিভাবে হলো সেটা দেখে তার বিচার করব। ইতিমধ্যেই শুনেছেন বাসটি জব্ধ হয়েছে, চালককে ধরা হয়েছে। তার লাইসেন্স আছে কি না সেটাও দেখব। কারণ চালকের লাইসেন্স নেই বলে শোনা যাচ্ছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যারাই দায়ী, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রচলিত যে আইন আছে, সে অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জাবালে নূর বাসে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকার কথা জানা গেছে। বাসটির রুট পারমিট ও চালকের লাইসেন্স ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্সার ও কিডনি রোগে বছরে যত মানুষ মারা যায়, দুর্ঘটনায় তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়—এটি স্বীকার করতে আমার বাধা নেই।’ চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তারা আন্দোলন করে। এ ক্ষেত্রে এমন হলে কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’



