সমকামীতার পর এবার গর্ভপাতকে বৈধতা দিল আয়ারল্যান্ড৷ শনিবার এক গণভোটে ইউরোপের অত্যন্ত সংরক্ষণশীল এই দেশটির জনগণ গর্ভপাত বৈধ করার পক্ষে ভোট দেন৷ দেশটির প্রধানমন্ত্রী লেও ভারাদকর এই গণভোটকে একটি নীরব বিদ্রোহ বলে বর্ণনা করেছেন৷  তার ভাষ্যমতে, এটা এমন এক গণভোট যা গোটা প্রজন্মে একবার হয়৷ গণভোটে গর্ভপাতের পক্ষে ভোট পড়েছে ৬৬.৪ শতাংশ। আর বিপক্ষে পড়েছে ৩৩.৬ শতাংশ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স৷
খবরে বলা হয়, শনিবারের গণভোটটিতে প্রতি তিন জন ভোটারের মধ্যে দুজন গর্ভপাতের পক্ষে ভোট দিয়েছেন৷ এই বছরের মধ্যেই গর্ভপাত বিষয়ক আইনে পরিবর্তন আনবে সরকার৷
বহু বছর ধরে আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাত নিষিদ্ধ ছিল৷ ১৯৮৩ সালে গণভোটের মাধ্যমেই গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অষ্টম সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হয় সেদেশে৷ পরবর্তীতে একাধিক ঘটনায় গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তা বোঝা গেলেও আইনে পরিবর্তন আনা হয়নি৷ ম্যারি হ্যাগিনস নামে এক নারী গণভোটের ফলাফল নিয়ে জানান, এটা অবিশ্বাস্য৷ এতগুলো বছর ধরে আমরা নারীদের দেখাশোনা করার চেষ্টা করে এসেছি। কিন্তু তাদের দেখাশোনা করতে পারিনি৷ এটা আমাদের কাছে অমূল্য৷
কয়েক দশক ধরে প্রতি বছর গর্ভপাত বিরোধী আইনের কারণে ৩ হাজারেরও বেশি আইরিশ নারীকে গর্ভপাতের জন্য যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করতে হতো৷ অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অনলাইনে অবৈধ উপায়ে ঔষুধ এনে তা খেয়ে গর্ভপাত করতো৷ গর্ভপাতের সমর্থকরা বলেন, আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাত ইতিমধ্যেই চলছিল৷
সম্প্রতি দেশটিতে গর্ভপাতের পক্ষে নারীদের আন্দোলন শুরু হয়৷ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গর্ভপাত নিয়ে তাদের কষ্টকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন৷ পুরো দেশের ৪০টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে ৩৯টিতেই গর্ভপাতের পক্ষে ভোটদানকারীরা জয়ী হয়েছে৷ গণভোটটিতে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬ শতাংশ৷ দেশটির ইতিহাসে কোন গণভোটে এটাই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির ঘটনা৷
দেশটির প্রথম সমকামী প্রধানমন্ত্রী ভারাদকর গণভোট নিয়ে শনিবার বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন৷ একটি নীরব বিদ্রোহ ঘটেছে৷ সবাই একটি দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার যোগ্য৷ এটা ছিল আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় সুযোগ- সবাইকে সমানভাবে, সমবেদনা ও সম্মানের সঙ্গে সামলানোর৷ আমরা বাস্তবতার চোখে তাকিয়ে, পলক না ফেলে ভোট দিয়েছি৷