বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বাড়াতে এখন নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করছে।

এতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), প্রেফারেনসিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (আরটিএ) এর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নয়নের দিকটিও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে তৈরি পোশাক ছাড়াও নতুন করে চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, সফ্টওয়্যার ও তথ্য-প্রযুক্তি সেবা কানাডায় রফতানি করার বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। ফলে কানাডায় বাংলাদেশের পণ্য রফতানি অনেক বৃদ্ধি পাবে।

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রফতানি আয় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। রোববার দুই দিনব্যাপী ‘শোকেস কানাডা-২০১৮’ নামে ট্রেড অ্যান্ড এডুকেশন ফেয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাজধানীর বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে ঢাকাস্থ কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং কানাডা হাইকমিশন যৌথভাবে এর আয়োজন করছে। অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়েট প্রিফনটেইন, কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. কামাল উদ্দিন, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সাউথ এশিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল ডেভিড হার্টম্যান বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনের পর বাণিজ্যমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

এ ট্রেড অ্যান্ড এডুকেশন ফেয়ার আগামী ৭ মে পর্যন্ত চলবে। মেলায় ৩৩টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ মূহূর্তে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। কানাডার বিনিয়োগকারীরা এ দেশে বিনিয়োগ করে সেসব সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে তারা বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন।

তারা চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, কানাডা বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কানাডায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য যায়। বাংলাদেশেও কানাডার তত্ত্বাবধায়নের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।