কবে আসবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিন। নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণ করে রাখতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে মুহূর্তটি উদযাপন করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান ছাড়াও ওইদিন সারাদেশে আতশবাজি উৎসবের সঙ্গে উড়বে রঙিন বেলুন। দিনটির জন্য অপেক্ষায় আছেন দেশবাসী।

পাঁচ মাস আগে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এছাড়া ২০১৮ সালের এপ্রিলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর কথা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম দেশবাসীকে এতথ্য জানিয়েছিলেন।

সর্বশেষ বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ৭ মে উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে এ দিনেও উৎক্ষেপণ হচ্ছে না। নতুন দিনক্ষণ নির্ধারিত হলে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ৭ মে উৎক্ষেপণ প্রসঙ্গে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা কখনও বলিনি যে, ৭ তারিখেই উৎক্ষেপণ হবে কারণ এটা একটা টেকনিক্যাল বিষয়। এটি প্রথমে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হবে। পরবর্তীতে চূড়ান্ত দিন নির্ধারিত হবে। আগামী ৭ মে এটা উৎক্ষেপণের জন্য যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, সেই দিনটাও এখন আর ঠিক থাকছে না আবহাওয়াগত কারণে’।

মন্ত্রী আরও বলেন, এখানে আমাদের কোনও হাত নেই। সবাই এটি উৎক্ষেপণের জন্য অপেক্ষা করছি। একটা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আয়োজন অনেক বড়। সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরই তারা এটা উৎক্ষেপণ করে।’

জানা গেছে, ৭ মে উৎক্ষেপণের দিন মাথায় রেখে ২ মে ছোট একটা পরীক্ষা চালানোর কথা থাকলেও সেটি সম্পন্ন হয়নি। এ পরীক্ষার জন্য ৪ মে অর্থাৎ শুক্রবার দিনক্ষণ ঠিক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি। এরপর সিদ্ধান্তে আসতে আরও ৩/৪ দিন সময় লাগবে।

তবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের বিষয়ে এর আগে একাধিকবার দিন তারিখ ঘোষণা দিয়েছেন তারানা হালিম।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের জন্য কক্ষপথের শ্লট ভাড়া নিতে রুশ প্রতিষ্ঠান ইন্টার

 

স্পুটনিকের সঙ্গে দু’বছর আগেই চুক্তি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এবার এ প্রকল্প নিয়ে ‘অডিও ভিডিও ডকুমেন্টারি’ তৈরির কাজের জন্য আহ্বান করা দরপত্রের বাক্স খোলা (টেন্ডার ওপেন) হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের উদ্যোগ।

ফ্রান্সে এরই মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ তৈরি হয়ে গেছে। এখন শুধু কারিগরি বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্পেস সেন্টার থেকে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে।

ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রজেক্টর বসিয়ে মানুষকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখানো হবে।

এরই মধ্যে এ কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তারা জানান, সিদ্ধান্তের মধ্যে বিগত কার্যবিবরণী নিশ্চিতকরণ, বেতবুনিয়ায় সেকেন্ডারি গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণস্থলে ‘বেতবুনিয়া প্রাইমারি স্কুল’ জরুরি ভিত্তিতে অপসারণ এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পের ওপর অডিও-ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি অন্যতম।

পাশাপাশি আমদানি করা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো এবং সেখানে নিযুক্ত বিদেশি পরামর্শকদের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফলভাবে এ স্যাটেলাইট  মহাকাশে পাড়ি দিলে বিশ্বের ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব-দ্রাঘিমাংশে।

এ কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে।

২০১৮ সালে শুরু হবে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম। স্যাটেলাইটের মধ্যে পাওয়া যাবে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এর মধ্যে ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে, বাকীগুলো ভাড়া দেওয়া হবে।

প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। স্যাটেলাইট তৈরির জন্য ফ্রান্সের থ্যালেস এলেনিয়া স্পেস কোম্পানির সঙ্গে ১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকার চুক্তি করেছে বিটিআরসি।

এখন কবে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে সেই অপেক্ষায় দেশবাসী।